সদরপুরের পর ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারি, কারণ জানা নেই কারো

সদরপুরের পর ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারি, কারণ জানা নেই কারো
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। ছবি: ইত্তেফাক

ফরিদপুরের সদরপুরের পর এবার ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার নির্বাহী অফিসার রকিবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১৪৪ ধারা জারির কথা জানানো হয়। সেখানে বলা হয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সভা, সমাবেশ, র‍্যালি অনুষ্ঠিত হলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজ ক্ষমতাবলে এই ১৪৪ ধারা জারি করেছেন তিনি। অবশ্য ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব নির্ধারিত কোন সভা সমাবেশের অনুমোদন বা আয়োজন ছিলো বলে কোন নথি নেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

নিজ সংসদীয় আসনে এভাবে ১৪৪ ধারা জারির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, 'ভাঙ্গায় আমার বা আমার সমর্থকদের পূর্ব নির্ধারিত কোন সভা-সমাবেশ বা মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত ছিলো না। যদি কোন সভা-সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া না হয়, তাহলে কী কারণে হঠাৎ করে এই উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।'

এর আগে শনিবার নিক্সন চৌধুরীর পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে ফরিদপুরের সদরপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিক্সন চৌধুরী জানান, ব্যক্তিগতভাবে কোন সমাবেশের কথা না জানালেও স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদরপুরে ১৪৪ ধারার মধ্যেই নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সমবেত হন। এ সময় তিনি সেখানে থাকা সমর্থকদের আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

এদিকে ভাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারিতে বিস্ময় প্রকাশ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, এখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে। আমি বা আমার সমর্থকদের কেউ উপজেলা প্রশাসনের কাছে সভা-সমাবেশ বা মানববন্ধনের অনুমতি চাইনি। অকারণে একটি থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দৈনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে অকারণ ভয়-ভীতি প্রদর্শন কেনো করা হচ্ছে আমার জানা নেই।

এরআগে, আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ফরিদপুরে জেলার সিনিয়র নির্বাচন অফিসার নওয়াবুল ইসলাম। আদালতে এই মামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন নিক্সন চৌধুরী। তিনি আদালতে মামলা পরিচালনার ঘোষণা দিলেও, তার এই মামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সাধারণ জনগণ।

উল্লেখ্য ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হয়েও নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন জানান নিক্সন চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলও চাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থনে নৌকা মার্কা জয়ী হয়। নির্বাচনের দিন রাতেই নিক্সন চৌধুরী দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোটে হারাবর জন্য এবং বালু ব্যবসায়ী বিএনপি প্রার্থীকে জেতাবার জন্য ফরিদপুর প্রশাসন নির্বাচনের দিন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। এরপরই অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয় একটি অডিও ক্লিপ। ১৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে নিক্সন চৌধুরী জানান, এই অডিও ক্লিপটি সুপার এডিট করা। তিনি এই কথাগুলো বলেননি। বরং তার বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যক্তিরা এটি তৈরি করেছে।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত