বাড়ির উঠানেই চাপা ছিল ৭দিন ধরে গৃহবধূর নিখোঁজ রহস্য

বাড়ির উঠানেই চাপা ছিল ৭দিন ধরে গৃহবধূর নিখোঁজ রহস্য
নিহত গৃহবধূ আফরোজা ও অভিযুক্ত স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পি। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলায় গত ৬ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা গৃহবধূ আফরোজা বেগমের মরদেহ অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে স্বামীর বাড়ির আঙ্গিনার মাটি খুঁড়ে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম আফরোজা (২৫)। তিনি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূঁইছড়া গ্রামের মো. ইসহাকের মেয়ে। স্বামীর নাম রাকিব হাসান বাপ্পি। বাপ্পি চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তিনি উত্তর নলবিলার হাসান বশিরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এক বছর আগে বাপ্পির সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। এটি আফরোজার তৃতীয় এবং বাপ্পীর চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে ধরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। অবশেষে গত কিছুদিন পূর্বে মামলায় আপোষের সূত্র ধরে স্বামী বাপ্পি স্ত্রী আফরোজাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। গত ১২ অক্টোবর স্ত্রী আফরোজা নিখোঁজ হয় বলে শাশুড়ি রোকেয়া হাসান আফরোজার বাবার বাড়িতে খবর দেয়। সেই থেকে আফরোজা নিখোঁজ ছিল। আর এদিন থেকে স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পীও পলাতক ছিল।

মহেশখালী থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, গত ১২ অক্টোবর শ্বশুর বাড়ি থেকে আফরোজা বেগম ‘নিখোঁজ’ হন। এ ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ ইসহাক বাদি হয়ে রাকিব হাসান বাপ্পীকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

শনিবার রাতে স্বামীর বাড়ির লোকজন উঠানের মাটি খুঁড়তে শুরু করলে গোয়েন্দা তথ্যে পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়। পরে ওই বাড়ি থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় আফরোজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ধরতে অভিযান চলছে।

ময়নাতদন্তের জন্য আফরোজার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

ঘটনা পরিক্রমা : নারী ও শিশু নির্যাতন

পরবর্তী
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত