দিনে ১৪৪ ধারা, রাতে ইউএনওর ফাঁকা চার রাউন্ড গুলি, আতঙ্কে ভাঙ্গার অধিবাসীরা

দিনে ১৪৪ ধারা, রাতে ইউএনওর ফাঁকা চার রাউন্ড গুলি, আতঙ্কে ভাঙ্গার অধিবাসীরা
ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদে চার রাউন্ড গুলি চালানো নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত।

ভাঙ্গায় কোন স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারির পর রাতে ফাঁকা চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন ফরিদপুরের এই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। ভাঙ্গা থানার ওসি জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময় উপজেলায় নিজ বাস ভবনের কাছে শটগান থেকে এই গুলি ছোড়েন তিনি।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি বসবাসরত এক ব্যক্তি জানান, এখানে হঠাৎ করেই পরিবেশ থমথমে হয়ে গেছে। সারাদিন ১৪৪ ধারা, আবার রাতে ভয়ংকর গুলির শব্দে আতঙ্কে রয়েছি আমরা। কেন এমনটা করা হচ্ছে জানা নেই আমার।

এদিকে চার রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, 'রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপজেলা পরিষদ ও আশেপাশে থাকা বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য যাই আমরা। সেখানে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন এবং উপজেলা পরিষদের ওখানে কর্মরত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান গুলি চালিয়েছেন। কিন্তু তিনি কেনো গুলি চালিয়েছেন তা জানতে বেশ অনেকবার তার ব্যক্তিগত এবং সরকারি ফোন নম্বরে ফোন দিয়েও পাইনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানাতে পারব।'

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ৪ রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম বলেন, ‌'ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকায় চার রাউন্ড গুলি করার বিষয়ে আমি শুনেছি। সেখানে তদন্তের জন্য আমাদের ফোর্স গিয়েছিলো। জানা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুলি চালিয়েছিলেন। এরপর আমি তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে কথা বলে গুলি চালানোর বিষয়ে আরো তথ্য জানানো যাবে।

অবশ্য গুলি করা বা কোন গোলাগুলি হওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান। রাতে ফোনে তিনি ইত্তেফাককে জানান, গোলাগুলির কোন ঘটনাই ঘটেনি। চার রাউন্ড গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটা কোন বিষয় না। এরকম কোন কিছু নাই। এমন কোন সমস্যা হয়নি।'

কিন্তু ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান ও ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম নিশ্চিত করে জানান, গুলি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চালিয়েছেন। সেখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এ কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কেনো গুলি চালিয়েছেন সে বিষয়ে কোন তথ্য এখনো জানা যায়নি।

রবিবার ভাঙ্গায় কোন সমাবেশ না থাকার পরও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্তকে 'হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। তিনি অকারণে ১৪৪ ধারা জারি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘১৪৪ ধারা খেলার বিষয় নয়।'

উল্লেখ্য, আজকে সারাদিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করাতে এমনিতেই নেতাকর্মী ও জনসাধারণের ভেতরে আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। রাতে এই গুলির ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

ইত্তেফাক/এএম/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত