নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতমুক্ত করতে হকার-পুলিশ লুকোচুরি

লোকদেখানো অভিযানে ক্ষুব্ধ নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতমুক্ত করতে হকার-পুলিশ লুকোচুরি
নারায়ণগঞ্জ : ফুটপাতে হকারদের জমজমাট পসরা —তাপস সাহা

শহরে ফুটপাতের হকারদের সঙ্গে প্রশাসনের চলছে লুকোচুরি খেলা। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রশাসনের লোকজন ফুটপাত হকারমুক্ত করে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হকাররা যে যার অবস্থানে বসে যান। দীর্ঘদিন যাবত্ চলে আসা এ নাটকের অবসান ঘটিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য সিটি মেয়র ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

শহরের ২ নম্বর রেলগেট থেকে বিবি রোড হয়ে চাষাঢ়া পর্যন্ত এবং ২ নম্বর রেল গেট থেকে সিরাজদৌলা রোড হয়ে চারারগোপ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত জুড়ে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন হকাররা। ফুটপাত পথচারীদের হেঁটে চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও সেখানে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে হকাররা। তাদের পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে প্রভাবশালী মহল।

শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন চেষ্টা করলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ঘটে গেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কিন্তু তাতেও সমাধান মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই ফুটপাত চলে যায় হকারদের দখলে। অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, ফুটপাত দখলের পর হকাররা সড়কেও বসছেন পসরা সাজিয়ে। ফলে সড়কে নিয়মিতভাবে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে চাষাঢ়া থেকে বিবি রোড ধরে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জায়েদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিবি রোডের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বিকালে অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরেই আবারও হকারদের দখলে চলে যায় ফুটপাত।

শহরের উকিলপাড়ার জনৈক অধিবাসী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘পুলিশের লোকদেখানো উচ্ছেদ আমরা বুঝে গেছি। কারণ পুলিশ নিজেরাই ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। তাই তারা কোনোদিনও স্থায়ীভাবে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করবে না। আমরা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী এবং পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের কাছে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আশা করছি।’

কালীরবাজারের জনৈক অধিবাসী জানান, ‘সবাই হকারদের উচ্ছেদের কথা বলে কিন্তু কেউ তাদের পুনর্বাসনের কথা বলে না। হকাররা কেউ তো অবৈধ কোনো ব্যবসা করছে না। পেটের দায়ে তারা ফুটপাতে বসে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করছে। আর ফুটপাতের হকাররা আছে বলেই আমাদের মতো নিম্ন আয়ের লোকেরা সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছি। তা না হলে উচ্চমূল্যের বিপণিবিতানগুলোতে গিয়ে কেনাকাটা করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দিয়ে অন্যত্র বসার ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু পুলিশ কোনোদিনই তা করবে না। কারণ ফুটপাত থেকে তাদের বিশাল অঙ্কের মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ফুটপাত যেমন পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে হবে, তেমনি হকারদেরও সঠিকভাবে পুনর্বাসন করতে হবে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত