ঘোড়াঘাটে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, অভিযোগেও মিলছে না প্রতিকার

ঘোড়াঘাটে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, অভিযোগেও মিলছে না প্রতিকার
ঘোড়াঘাটে ড্রেজার মেশিন দিয়ে এভাবেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।ছবি: ইত্তেফাক

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। উপজেলার শেখালীপাড়া গ্রামের আ. কাদের মীরসহ ১২জন ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ করেন নির্বাহী অফিসারের বরাবর।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ উপজেলার শেখালীপাড়া গ্রামের আ. সাত্তারের ৩ ছেলে লেবু, সাহেব, সাবু মিয়া ও একই উপজেলার বারপাইকের গড় গ্রামের আনার খলিফার ছেলে আ. রউফ ভান্ডারী নিজেদেরকে সরকারদলীয় লোক দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার ফলে কৃষি জমি ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীদের অনুমান ১০ একর কৃষি জমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বালু উত্তোলনে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন মারপিট, খুন-জখম ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এ ধারা ৫- এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী ২ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ রকম আইন থাকা সত্বেও উপজেলার শালিকাদহ, নুনদহ ঘাট, ভেলামারী, শেখালীপাড়া, সিংড়া ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে কুমড়িয়া (বাগপাড়া), চাঁদপাড়া, ও জয়রামপুর, বৈদড়, নারায়নপুরসহ প্রায় ১৫টি পয়েন্টে করতোয়া নদী ও মাইলা নদী থেকে অবাধে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বাস্তবতায় আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা হয় না। শুধুমাত্র পাইপ ও শ্যালো মেশিনগুলি পুড়িয়ে ফেলায় বালু উত্তোলনকারীরা পুনরায় এসব যন্ত্র ক্রয় করে আবার বালু উত্তোলন শুরু করে। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত মেসি, ট্রলি গুলো রাস্তা ঘাটে বেপরোয়া চলাচলের ফলে একদিকে যেমন রাস্তা ঘাটের ক্ষতি সাধন হচ্ছে। অপর দিকে রাস্তায় চলাচলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ এ সব মেসি ও ট্রলি এত দ্রুত গতিতে চালানো হয় যে, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হয়ে আসছে এবং আরও হতে পারে। অভিযোগকারী বাদেও এলাকাবাসীর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে এ সমস্ত অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইলিশ ধরতে যাওয়ায় এক জেলের কারাদণ্ড

গত ১২ অক্টোবর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছে কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান। আইন শৃঙ্খলা সভা চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফিউল আলম বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু ১২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এসব অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব বালু উত্তোলনকারীরা।

সরজমিনে উপজেলার জয়রামপুর একটি বালু পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, একটি মাইলা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ৩০টি পাইপ যা প্রতিটি পাইপ ২০ফিট করে লম্বা জয়েন্ট করে রাস্তার ধারে নিয়ে গিয়ে বালুর স্তূপ করা হচ্ছে। এ রকম নারায়ণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় ১০০টি পাইপ জয়েন্ট করে বালু পয়েন্ট থেকে বহুদূরে বালুর স্তূপ করা হচ্ছে।

শেখালীপাড়া পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, অভিযোগ করার পর তারা রাতদিন মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগের লোকজন বলে তারা জানায়।

এদিকে কৃষি জমির আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অতিদ্রুত বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন আ. কাদের মীরসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত