কক্সবাজার বিমানবন্দর

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ আবারো থমকে যাওয়ার আশংকা

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ আবারো থমকে যাওয়ার আশংকা
কক্সবাজার বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ আবারো থমকে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের এ প্রকল্পটি নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) টালবাহানা যেন থামছেই না। প্রথম দফায় নানা অনিয়মের মাধ্যমে একটি কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কাজ দেয়ার সকল প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হবার পর এবারো সেই একই প্রক্রিয়ার মধ্যে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটিতে নানা অনিয়মের সন্ধান বের করেছিলো। কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে বেবিচকের একটি মহল বিতর্কিত ওই কোম্পানিটিকে কাজ দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। কিন্তু শেষ রক্ষা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেবিচক ওই কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহবান করে। দরপত্রে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলো এবারও আগের আলামতই পাচ্ছেন।

জানা গেছে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে সু-পরিসর বিমান অবতরণের লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই আন্তরিকতার সাথে নিয়েছেন। সে লক্ষ্যে এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণসহ সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি শক্তিশালী চক্র। রানওয়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রথম দফায় যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিলো, তাতে বেশ কয়েকটি কোম্পানি অংশ নেয়। কিন্তু দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এমন একটি কোম্পানিকে বেছে নেয় যেটি বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত। ওই কোম্পানিকে কাজ দেয়ার জন্য সব প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ করে আনে বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কমিটি। এমনকি সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও ওই কোম্পানির প্রস্তাব পাশ করার জন্য নেয়া হয়।

কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে নানা অভিযোগ উঠার পর কমিটির সদস্যরা প্রস্তাবের নানা অনিয়ম তদন্ত করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডিকে দায়িত্ব দেয়। আইএমইডির সংশ্লিষ্ট শাখা প্রস্তাবটিতে নানা ধরনের অনিয়ম পায়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তারা ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রেরণ করেন। কিন্তু বেবিচক আইএমইডির রিপোর্ট উপেক্ষা করে প্রস্তাবটি আবারো ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে পাঠায়। এতে কমিটির সদস্যরা প্রকল্পের সাথে জড়িতদের তিরস্কারও করেন। এরপর ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে প্রস্তাবটি আর পাশ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কমিটিতে প্রস্তাবটি নাকচ হবার পর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোট পাঠানোর উদ্যোগও নেয়া হয়। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সেই নোট আর পাঠানো হয়নি।

এদিকে, প্রথম দফায় প্রস্তাব বাতিল হবার পর দ্বিতীয় দফায় আবারো দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবার মোট সাতটি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কিন্তু প্রথম দফায় যে কনসোর্টিয়ামকে একমাত্র যোগ্য বলে বেবিচক প্রস্তাব করেছিলো সেই কনসোর্টিয়ামও দ্বিতীয় দফায় দরপত্র জমা দিয়েছে। আগের দরপত্রে যে মূল্যায়ন কমিটি ছিলো তাও এবার বহাল তবিয়তে আছে। সে বিবেচনায় এবারও যে দরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন হবে তা নিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সংশয়ে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বেবিচকের এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। এখনিই বেবিচকের এ সিন্ডিকেটকে থামাতে না পারলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা যাবার পাশাপাশি যোগ্যতর বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত