সেটেলমেন্ট অফিসারের ভুলে চৌগাছায় ২২ বিঘা জমি সরকারের হাতছাড়া হচ্ছে

সেটেলমেন্ট অফিসারের ভুলে চৌগাছায় ২২ বিঘা জমি সরকারের হাতছাড়া হচ্ছে
সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা। ছবি: ইত্তেফাক

সেটেলমেন্ট অফিসারের ভুলে চৌগাছার পুড়াপাড়া বাজারের ২২ বিঘা জমি সরকারের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। যশোরের চৌগাছা এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এ বাজার অবস্থিত। বাজারের এক তৃতীয়াংশ মহেশপুর উপজেলার আওতায় হওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন মহেশপুর উপজেলা প্রশাসন।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারসহ সাতটি গ্রামের জনগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে চৌগাছা উপজেলাতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

পরবর্তীতে মহেশপুর-কোটচাঁদপুর আসনের সাবেক এমপি মাস্টার শহিদুল ইসলাম আদালতে মামলা করে পুনরায় মহেশপুর উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করেন। মূলত ঐ সময় থেকে দুই উপজেলার রশি টানাটানির কারণে সব সরকারের আমলে বাজারটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে একদল ভূমিদস্যূ বাজারের জমি দখল এবং নিজ নামে রেকর্ড করার জন্য মেতে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় ভূমিদস্যুরা সেটেলমেন্ট অফিসারের যোগসাজশে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করায় সরকারের পুড়াপাড়া বাজারের ২২ বিঘা জমি হাত ছাড়া হতে বসেছে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলাধীন ১১নং মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের এসএ ১৩৪ নং বিশ্বনাথপুর মৌজার ২৪৬.৭০ একর জমি সরকারি ১নং খতিয়ানভূক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ পক্ষে কালেক্টর যশোর এর নামে এসএ রেকর্ড প্রকাশিত হয়। উক্ত ২৪৬.৭০ একর জমির মধ্যে ৫ দাগে ৪০শতক, ৮ দাগে ২.০৪ শতক, ১০ দাগে ২.৫৬ শতক, ১১ দাগে ৮১ শতক, ১৪ দাগে ৬৭ শতক ও ১২/২৯ দাগে ৭৫ শতক সর্বমোট ২২.৩ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পুড়াপাড়া হাট হয়ে আসছে। কিন্তু আরএস রেকর্ডের সময় মহেশপুর সেটেলমেন্ট অফিসের তৎকালীন অফিসার মো. শহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় স্থানীয় কতিপয় ভূমিদস্যুরা নামে-বেনামে ২২.৩ শতক জমির অধিকাংশ জমি রেকর্ড করে বিভিন্ন পাকা স্থাপনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ভারতে একদিনে ৪৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত

এলাকাবাসী বলছেন, এসএ রেকর্ড সরকারের ১নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও কিভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জনাব মো. সামাউল হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আরএস রেকর্ডের প্রিন্ট পরচা প্রকাশিত হওয়ার পর জানতে পারলাম পুড়াপাড়া হাটের এসএ রেকর্ডের ১নং খতিয়ানভূক্ত ও পেরিফেরিভূক্ত জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়েছে। তখন ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হওয়া সম্পত্তি সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ২৮/১০/২০১৯ তারিখে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, যশোর জোন, যশোর ৭৭টি কেস দাখিল করেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উক্ত কেসের কোন সুরাহা হয়নি। গেজেট প্রকাশনা যাতে না হয় তার জন্য পত্র চালাচালি চলছে।

এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি এখনও গেজেট হয়নি। তবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হওয়া সরকারি জমি যাতে ফেরত পাওয়া যায় তার সার্বিক চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত