বগুড়ায় শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাত্ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

বগুড়ায় শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাত্ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাত্ মামলায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানার জামিন না-মঞ্জুর করেছে আদালত। এই মামলায় রানার স্ত্রী আকিলা শরিফা সুলতানাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রানাকে কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে পুলিশের আদালত পরিদর্শক আম্বিয়া নিশ্চিত করেছেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, টাকা আত্মসাতের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন আনোয়ার হোসেন রানা। রবিবার বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য আসেন তিনি। তবে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রবিউল আওয়াল তার জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত পহেলা অক্টোবর রানার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তার শাশুড়ি। এ নিয়ে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগটি ৫ অক্টোবর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। গত ১১ অক্টোবর রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে (সংশ্লিষ্ট আদালত) হাজির হতে বলেন।

আনোয়ার হোসেন রানার শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগমের অভিযোগে রানার স্ত্রী আকিলা শরিফা সুলতানা খানম আঞ্জুয়ারাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন রানা নন্দীগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম সামছুল হক। ভুক্তভোগী দেলওয়ারা বেগম বগুড়া সদরের কাটনারপাড়া এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত শেখ শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরি পরিচালনা করছিলেন দেলওয়ারা বেগম। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ছিলেন তার পাঁচ মেয়ে। অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা শহরের শাকপালা ও চারমাথা এলাকায় শরিফ সিএনজি লিমিটেড নামের দুটি ফিলিং স্টেশন এবং নবাববাড়ী রোডে দেলওয়ারা-শেখ শরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট পরিচালনা করে আসছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আকিলা শরিফা সুলতানাকে ব্যবসা দেখাশোনার মৌখিক অনুমতি দেন দেলওয়ারা বেগম।

একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন রানা দেলওয়ারা বেগমকে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চেক ও এফডিআরসহ বিভিন্ন নথিপত্রে তার স্বাক্ষর নেন। এছাড়া তার নিজের নামীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ টাকাসহ এফডিআর ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নেন অভিযুক্ত রানা। ২০১৫ সালের পহেলা জুন থেকে এই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ তুলে আত্মসাত্ করেন দেলওয়ারা বেগমের মেয়ে ও জামাই। এরই বাইরে একই সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তার নামীয় ব্যাংক হিসাব থেকে আরো ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাত্ করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কৌশলে আনোয়ার হোসেন রানা ১০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন তার শাশুড়ির কাছ থেকে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত