১০ হেক্টর বনায়ন অবৈধদখল মুক্ত কক্সবাজার বনবিভাগের

১০ হেক্টর বনায়ন অবৈধদখল মুক্ত কক্সবাজার বনবিভাগের
১০ হেক্টর বন উদ্ধার করলো কক্সবাজার বন বিভাগ। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের ফুলছড়িতে সামাজিক বনায়ন কেটে জবরদখল করা ১০ হেক্টর বন উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এসময় বনভুমি দখল মুক্ত করতে তৈরি এক ডজনেরও বেশি কাঁচাবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলে নেওয়া হয়েছে ঘর করা চার হেক্টর জমিও। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তর বনবিভাগের চালানো অভিযানে এসব বনভূমি জবরদখল মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর বনবিভাগের বিশেষ টহল টিমের ইনচার্জ একেএম আতা এলাহী।

বন কর্মকর্তা আতা এলাহী জানান, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের ফুলছড়ি বিটের ২০১৮-১৯ সালের স্বল্প মেয়াদী ১০ হেক্টর বাগানের ৪ হেক্টরের গাছ কেটে অবৈধভাবে ঘর তুলে সরকার দলসহ নানা রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থানীয় দখলবাজরা। লোকবল সংকটের মাঝেও স্থানীয় বিট ও রেঞ্জ অফিস কয়েকবার অভিযান চালালেও অস্ত্রধারি দখলবাজরা পুনরায় দখলকাজ চালিয়েছে। সরকারি বন ও বনভূমি দখলে নিয়ে ঘর করা অব্যহত রাখার খবরে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম, ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া, মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুন মিয়া, আমার বিশেষ টিমসহ বিভিন্ন রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা, স্টাফ ও ভিলেজারগণ আজ (মঙ্গলবার) অভিযানে অংশ নেন। এসময় গাছ কেটে করা ঘরগুলো গুড়িয়ে দিয়ে বাগান ও বন ভুমি দখলে নেয় বনবিভাগ।

এসিএফ মো. সোহেল রানার জানান, অভিযানের পর দখলদার হিসেবে ইসলামপুরের ওসমান আলী মোরশেদ, নুরুল আবছার, জসিম উদ্দিন, মুহাম্মদ কালু, মোহছেনা বেগম, মোহাম্মদ সাদেক, ফাতেমা বেগম, আবদুল মজিদ, সবুজ, এহেসান, মনজুর আলমসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে, অভিযানকালে কাউকে স্পটে পাওয়া যায়নি। তাই নিরহদের না জড়াতে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো প্রকল্পে ফুলছড়ি বনবিটের অধীনে ফুলছড়ি জুম নগরের আশপাশ, চন্দ্রবনিয়া ও বউ লামানির শিয়া এলাকায় ৫০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন করে তৎকালীন ৪দলীয় জোট সরকারের নেতা-কর্মীদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। ৪-৫ বছরের মধ্যেই ওইসব বনভুমির প্রায় ৪০ হেক্টর বনায়নের গাছ সাবাড় করে উপকারভোগীরাই তা শতক হিসেবে বিক্রি করে। এভাবে কয়েকশ’ স্থাপনা গড়ে পাড়া হয়ে উঠে। অবশিষ্ট ১০ হেক্টর সামাজিক বনায়নের কিছু গাছ ছিল, তা কেটে ২০১৭-১৮ সালে ১০ হেক্টর নতুন বনায়ন করা হয়। এ ১০ হেক্টর বনায়নের প্রায় ৪ হেক্টরে ঘরবাড়ি তৈরী করে দখলদারেরা। খবর পেয়ে বনবিভাগের বিশেষ টহলের নেতৃত্বে বনবিভাগ ২০১৯ সালে ২৬ জুন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। কিন্তু স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি ওসমান আলী মুর্শেদ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছারের নেতৃত্বে সন্ধ্যার পর আবারো কাঁচাঘর নির্মাণ করে। এ ১০ হেক্টর বনায়নে এখনো উপকারভোগী নিয়োগ হয়নি। তাদের দেখাদেখি স্থানীয় ভাবে ক্ষমতাশীল ভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরাও দখলে মেতে উঠে।

সুত্র আরো জানিয়েছে, ফুলছড়ি বনবিটের বিভিন্ন সময়ে বনভুমি দখল, প্লট আকারে বিক্রয়কারীদের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন স্থানীয় পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বনভুমি দখলকারী ১৭০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। যাতে ১৯ জন যুবলীগ, বিএনপির ৪৮ জন, ২৬ জন যুবদল-ছাত্রদল, ২৪ জন ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়াও রয়েছে ২৫ জন ভিলেজার, একজন হেডম্যানসহ প্রভাবশালী আরও ৩৫ জন দখলদারের নাম উঠে এসেছে। এতে বনবিট কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) তহিদুল ইসলাম বলেন, বন ও বনভূমি অবৈধ দখলদাররা প্রকৃতির শত্রু। কে কোন দল বা ক্ষমতাশীল কিংবাা দূর্বল তা বিবেচনায় নয়, অপরাধী বিবেচনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লোকবল সংকট থাকায় অনেকসময় ইচ্ছে থাকার পরও সময়মতো অভিযান চালানো যায় না। কিন্তু দখলে অভিযুক্ত এলাকাগুলোতে এখন থেকে কঠিন নজরদারি রেখে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত