রাণীনগরে লাগামহীন সবজির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

রাণীনগরে লাগামহীন সবজির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
গ্রামীণ বাজারগুলোতে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ছবি-ইত্তেফাক

রাণীনগরে সবজির লাগামহীন দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, খেটে-খাওয়া মানুষরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ৫০-৬০টাকা কেজি দরের নীচে গ্রামীণ বাজারগুলোতে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না।

মাঠ পর্যায় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ে বিক্রেতারা সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য অমান্য করে চড়া দামে সবজি বিক্রি করায় এই লাগামহীনতা আরো চরমে পৌছেছে। স্থানীয় পাইকাররা বলছেন, প্রতি বছর এই সময়ে প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি কৃষকরা গ্রাম পর্যায় থেকে বাজারে আনলেও বন্যা আর দফায় দফায় অতিবৃষ্টির কারণে আগাম জাতের সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই বাজারে সবজির আমদানি কমে যাওয়ায় চড়া দামে বাধ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতারা।

উপজেলার কুজাইল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে সবজি চাষীরা বৃষ্টির কারণে আশানরুপ সবজি চাষ করতে পারেনি। তাই বাজারে আমদানি কম হওয়ায় পাইকারী কেনা দরের চেয়ে সামান্য কিছু লাভ হাতে রেখে আমি সবজি বেচা-কেনা করছি। লাগামহীন ভাবে প্রতি দিনই সবজির দর বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনা করতে গিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে মনোমালিন্যসহ বাকবিতণ্ডার মতো ঘটনা ঘটছে।

সান্তাহার হাটখলার সবজি ব্যবসায়ী নকুল কুমার বলেন, সরকারি বেঁধে দেওয়া আলুর প্রতি কেজির দর ৩৫টাকা হলেও আমরা খুচরা বিক্রি করছি ৪০টাকা। পটল, করলা ও বেগুন ৬০টাকা দরে, পেঁয়াজ ৮০, কপি ১০০, শিম ১২০, কাঁচা মরিচ ১৬০টাকা কেজি বিক্রি করছি। কারণ আমরা কিনছি বেশি দামে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে স্বাভাবিক পর্যায় আসতে আরো দেরি হবে।

কুজাইল গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, আফজাল ও বাবু জানান, করোনাকালীন সময়ে এমনিতে আমাদের হাতে কাজ কর্ম নেই। তারপর বাজারে নিত্যপণ্য দ্রব্যের মূল্য উর্ধ্বগতি হওয়ায় আমরা পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সরকারি ভাবে যদি খোলা বাজারে আলুসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বিক্রয় করা হতো তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন হাট ও বাজারে অভিযান চলমান আছে। সরকারি বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে অধিক দামে বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত