রামগতিতে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর পাচ্ছেন ৬০ গৃহহীন পরিবার

রামগতিতে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর পাচ্ছেন ৬০ গৃহহীন পরিবার
দুর্যোগ সহনীয় বসত ঘর পাচ্ছেন ৬০টি অসহায় গৃহহীন পরিবার। ছবি-ইত্তেফাক

রামগতিতে মাথা গোঁজার জন্য দুর্যোগ সহনীয় বসত ঘর পাচ্ছেন ৬০টি অসহায় গৃহহীন পরিবার। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম সস্প্রসারণ ও গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। উপজেলায় গৃহ নির্মাণে জন্য গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এই ঘর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাজের বিনিময়ে টাকা-কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় বিশেষ খাতের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ৬০টি গৃহহীন পরিবারের জন্য এসব দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভূক্ত টিআর/কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থ দ্বারা গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসকল্পে গৃহহীন পরিবারের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

গৃহহীন পরিবারের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের মধ্যে রয়েছে রামগতি পৌরসভায় ৯টি, চরবাদাম ইউনিয়নে ৭টি, চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে ৭টি, চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নে ৯টি, চর আলগী ইউনিয়নে ৮টি, চর রমিজ ইউনিয়নে ৭টি, বড়খেরী ইউনিয়নে ৬টি এবং চরগাজী ইউনিয়নে ৭টি। সেমিপাকা প্রতিটি বসত ঘরে থাকছে ২টি কক্ষ, বারান্দা, ১টি রান্না ঘর ও ১টি শৌচাগার। প্রতিটি বসত ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। উপজেলায় এ সব বসত ঘরের মোট নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৬০০ টাকা।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরণের ৪৯টি দুর্যোগ সহনীয় বসত ঘর নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হন্তান্তর করা হয়। প্রত্যেকটি ঘরে নির্মাণ ব্যয় ছিলো ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। এ সকল বসত ঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিলো ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৯ টাকা।

সুবিধাভোগীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আগে তাদের থাকার ভাল ঘর ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে খুব সুন্দর ঘরগুলো করে দিয়েছেন। তাই তারা শেখ হাসিনা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। এছাড়া উন্নত মানের ইট, সিমেন্ট, বালি, লোহার এঙ্গেলসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে এ ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এই ঘর অনেক বছর টিকশই হবে বলে সুবিধাভোগীরা জানান।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে বরাদ্ধ পাওয়া বসত ঘরের উপকারভোগী উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর সেকান্দর এলাকার হাজেরা বেগম বলেন, আমার খুব ছোট একটি খুপরি ঘর জরাজীর্ন অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন সময়ে ঝড় বৃষ্টিতে ঘরে পানি পড়ে দুর্ভোগ পোয়াতে হতো। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় এ ঘরে পড়ে আছেন। কোন কাজ করতে পারে না। নিজের ভাল ঘর না থাকায় ছেলে পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে থাকে। পাকা ঘরের আশা বাস্তবে নয় স্বপ্নেও করিনি। সে আশা পূরণ হয়েছে। আমার সন্তানেরাও ভবিষ্যতে এ ঘরে বাস করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার একটি সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃজ্ঞতা জানান এই হাজেরা বেগম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত অর্থ বছরে (২০১৯-২০) কাবিটা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ৬০টি গৃহহীন পরিবারের জন্য ৬০টি বাস গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরণের ৪৯টি দুর্যোগ সহনীয় বসত ঘর নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি মো. আব্দুল মোমিন বলেন, ‘গৃহহীনদের গৃহদান’ কর্মসূচির অগ্রাধিকার প্রদান, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় যে সকল দারিদ্র জনগোষ্ঠীর সামান্য জমি বা ভিটা আছে কিন্তু টেকশই ঘর নেই তাদের জন্য ৮০০ বর্গফুটের জায়গায় রান্নাঘর, টয়লেটসহ একটি সেমিপাকা টিনশেডের ২ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণ বাবদ ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমরা মানসম্বত নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যেই ঘর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি এবং ঘরগুলো খুব দ্রুত সুবিধাভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত