আবার অশান্ত পাহাড়

আধিপত্যের লড়াইয়ে পাঁচ সংগঠন, রাঙ্গামাটিতে এক মাসে নিহত ৬, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান দাবি
আবার অশান্ত পাহাড়
আবার অশান্ত পাহাড়। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে পাহাড় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে রক্ত ঝরছে। আঞ্চলিক পাঁচটি সংগঠনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ ও অস্ত্রের ঝনঝনানির কারণে পাহাড়ের মানুষের শান্তি যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, তেমনি অসংখ্য মায়ের বুক খালি হচ্ছে।

গত এক মাসেই রাঙ্গামাটি জেলার তিন উপজেলায় ছয় জন নিহত হয়েছে। এছাড়া অস্থিরতার কারণে পাহাড়ে দিনে দিনে আঞ্চলিক সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন দল ছেড়ে নতুন নতুন দল-উপদল তৈরির মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এই অবস্থায় পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, বর্তমানে পাহাড়ে পাঁচটি আঞ্চলিক দল বিভিন্ন উপজেলা দখল করে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলগুলো হচ্ছে :পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সন্তু গ্রুপ), ইউনাইটেড পিপলস্্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (লারমা সংস্কার গ্রুপ), ইউনাইটেড পিপলস্্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ (সংস্কার গ্রুপ) ও মগ লিবারেল ফ্রন্ট।

পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আঞ্চলিক দলগুলোও পালটাপালটি অভিযোগ করছে। তারা একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে প্রতিনিয়ত হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলো তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ধামাচাপা দিতে লাশ গুম করে ফেলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জনসংহতি সমিতি (সন্তু গ্রুপ) ও ইউপিডিএফের (প্রসিত গ্রুপ) মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি থাকলেও সম্প্রতি এই চুক্তি কেউ মানছে না বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নেতারা।

রাঙ্গামাটির তরুণ রাজনীতিক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে, সেখানে আঞ্চলিক দলগুলোর সংঘাত আরো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমরা এর অবসান চাই। পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাটা খুবই জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

রাঙ্গামাটির নারী নেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, পাহাড়ে রাজনীতির মাঝে প্রতিহিংসা ঢুকে গেছে। এ কারণে তারা একে অন্যের ওপর হামলা করছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রতিহিংসায় না জড়িয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র থাকা যেমন বেআইনি, তেমনি পার্বত্য শান্তিচুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নও কাম্য। পাহাড় থেকে অস্ত্র উঠে গেলে শান্তি ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন হলেই হয়তো এই সংঘাত অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যেত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তত্পর হতে হবে। তিনি আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে সমস্যা আছে আলোচনায় বসুন, আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করুন। ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত