নিজ শহর নড়াইলে ভালবাসায় সিক্ত সাদাত

নিজ শহর নড়াইলে ভালবাসায় সিক্ত সাদাত
নিজ শহরে নড়াইলে ভালবাসায় সিক্ত সাদাত রহমান। ছবিঃ ইত্তেফাক

শিশুদের নোবেল খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাদাত রহমান নড়াইলে পৌঁছালে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবে এসে পৌঁছালে প্রেসক্লাবে সাদাতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম টুলুসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এসময় সাদাতের সাথে ছিলেন তাঁর বাবা মো: সাখাওয়াত হোসেন, মা মোসাঃ মলিনা খাতুন, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: মনিরুজ্জামান মল্লিক ও সহকারী অধ্যাপক মলয় কান্তি নন্দী এবং নড়াইল ভলান্টিয়ার্স ও সাইবার টিনসের সদস্যরা। নড়াইল প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমান অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘কিশোর-কিশোরীরা ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকতে পারে তার জন্য কাজ করে যাব। বিশ্বে যতদিন পর্যন্ত সাইবার বুলিং বন্ধ না হয়, ততদিন কাজ চালিয়ে যাব। দেশের ৬৪ জেলায় দ্রুত কার্যক্রম শুরু করব।’

এর আগে সকালে নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজের পক্ষ থেকে যশোর বিমানবন্দরে সাদাতকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সাদাত ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তারা সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন নড়াইল প্রেসক্লাবে।

আরো পড়ুনঃ পাইকগাছায় হলুদের বাম্পার ফলন

গত ১৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাদাতকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’ তাঁকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ঘোষণা করে। ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিজয়ীর হাতে থেকে সাদাত রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুভূতি ব্যক্ত করে সাদাতের বাবা মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাদাতের প্রতি দেশবাসীর আন্তরিকতা দেখে আমি অভিভূত। বাংলাদেশ যে ডিজিটাল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে, সাদাত তাঁর বাস্তব প্রমাণ। অন্য তরুণেরা তাঁর এটি দেখে এগিয়ে আসবে। মা মলিনা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার চেয়ে তার এসব দিকে ঝোক ছিল বেশি।

এ পুরস্কার বিজয়ের জন্য সাদাত বিশেষভাবে নড়াইল জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তাদের সমর্থন ছাড়া সাইবার বুলিং এগিয়ে নেওয়া যেত না, যা আমাকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে।

সাদাত জানান, পুরস্কারের ১ লাখ ইউরো অ্যাপটির কাজে ব্যয় করব। ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’ আমার ভবিষ্যদের পড়াশোনার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছে। ওয়ালটন কোম্পানি এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ৫ লাখ টাকা দিয়েছে। ইউনিভারসিটি অব প্রোফেশনালসের ভাইস চ্যান্সেলর মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সরোয়ার হাসান ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত