গাইবান্ধায় চারলেন সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

গাইবান্ধায় চারলেন সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
গাইবান্ধায় চারলেন সড়ক নির্মাণ চলছে ধীরগতিতে। ছবিটি শহরের কাচারি বাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি: ইত্তেফাক

গাইবান্ধা জেলা শহরে চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করতে সড়কের দুইপাশের স্থাপনাও সরিয়ে নেওয়া হলেও উদ্বোধনের দুইবছরে এখনও অর্ধেক কাজই হয়নি। এদিকে সরিয়ে নেওয়া স্থাপনার জায়গাগুলো ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জন দুর্ভোগ।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরের পূর্বদিকে বড় মসজিদ থেকে পশ্চিমে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর চারলেন কাজের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম। চারলেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে সড়ক নির্মাণে ৬ কোটি ও জমি অধিগ্রহণে ১১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।

সুত্রটি আরও জানায়, ঢাকাস্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এই কাজের দায়িত্ব পায়। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সওজের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার চারলেন সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাস টার্মিনাল থেকে ১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ১ নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সড়কের দুইপাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ চলছে ধীরগতিতে। শনিবার (২১ নভেম্বর) পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে শতকরা মাত্র ৪০ ভাগ।

শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ১ নম্বর রেলগেট থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে সওজের সীমানায় কোনো স্থাপনা নেই। কেবল সরকারি মহিলা কলেজ ভবন রয়েছে, সেটি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রায় একমাস আগে সড়কের উত্তর পাশে কিছু অংশ খুড়ে বালু ফেলা হয়েছে। শহরের কাচারি বাজার এলাকায় সড়কের দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নর্দমার জন্য গর্ত করে রাখা হয়েছে। কিছু অংশে বালু ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। কবে কাজ শেষ হবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

আরও পড়ুন: গ্রামের সহজ সরল ছেলে থেকে যেভাবে জঙ্গি হলেন নাঈমুল ও কিরণ

গাইবান্ধা শহরের কাচারি বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শ্রী রবীন চন্দ্র সাহা বলেন, ১০-১২ দিন আগে সড়কের দক্ষিণ পাশে নর্দমার জন্য গর্ত করা হয়েছে। পাশেই মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বাতাস উঠলেই বালু ঝড় বয়। এছাড়া এ কারণে এখানে সবসময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় বিঘ্ন ঘটছে। এই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ একদিন চলে তো চারদিনই বন্ধ থাকে।

কাজে ধীরগতি কেন জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এর মালিক মহিউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে চারলেন কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রফিক মিয়া বলেন, গাফলতির অভিযোগ সঠিক নয়। যে সড়কে চারলেনের কাজ হচ্ছে, সেটি গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রধান সড়ক। কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে দুইবছর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত ছিল। কিন্তু নানা কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। সড়কের দুইপাশ থেকে স্থাপনা সরাতে বিলম্ব হয়েছে। এখনও বেশিরভাগ এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো হয়নি। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করলেই পানির লাইন ও টেলিফোনের লাইন বের হচ্ছে। সেগুলো ঠিকঠাক রেখে কাজ করতে সময় লাগছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কোনো সহযোগিতা করছে না। তারপরও দ্রুত কাজ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক ঘেঁষে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানো এবং সড়কে পানির লাইন ও টেলিফোনের লাইনের কারণে কাজ বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত