ক্রমাগত লোকসানে বন্ধের পথে পাবনা সুগার মিল

ক্রমাগত লোকসানে বন্ধের পথে পাবনা সুগার মিল
পাবনা সুগার মিল। ছবি: ইত্তেফাক

ক্রমাগত লোকসানের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে পাবনা সুগার মিল। জন্মলগ্ন থেকেই ঋণ ও ঋণের সুদসহ লোকসানের বোঝা নিয়ে মিলটি এতোদিন চালু ছিল। চার শত কোটি টাকারও বেশি লোকসানে পড়ায় চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন মিলটি বন্ধে ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

উৎপাদন ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ অপেক্ষা চিনির বিক্রয়মূল্য কম থাকার কারণে ধারাবাহিক লোকসান ছাড়াও রয়েছে ঋণ ও ঋণের সুদ। পাবনা সুগার মিল এবং চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন পাবনা সুগার মিল খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। পাবনা সুগার মিল ছাড়াও বন্ধের তালিকায় কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের পাঁচটি মিলও রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে এ সমস্যা সমাধানে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন সারা দেশে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার থেকে ৬টি মিল গেটে ফটক সভা, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন চলতি বছর আখ মাড়াই মৌসুমের তারিখ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন সুগার মিলে বয়লার স্লো ফায়ারিং করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ।

বাংলাদেশ আখচাষী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও পদকপ্রাপ্ত ঈশ্বরদীর আখ চাষি শাজাহান আলী বাদশা জানান, মিল জোনে এ বছর ৫ হাজার ২ শত একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। পাবনা সুগার মিলে চলতি মাড়াই মৌসুমে ৮০ হাজার মে. টন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে কৃষকদের ৪ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদীতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক এ বছর তাদের জমিতে আখ চাষ করেছেন। আবাদকৃত আখ কাটার উপযোগী হয়েছে। এখন যদি মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

১৯৯২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া মৌজায় ৬০ একর জমির উপর পাকিস্তান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় 'পাবনা সুগার মিল' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটির পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। মিলটি বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে। চালুর পর থেকেই মিলে উৎপাদন ঘাটতি ও লোকসানের কবলে পড়ে। আখের স্বল্পতা, আখ হতে চিনি আহরণের হার কম থাকা, মাথাভারী প্রশাসন, সুদসহ ঋণের কিস্তি পরিশোধ, উৎপাদিত চিনি অবিক্রীত থাকাসহ নানাবিধ সংকটে পাবনা চিনিকলের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় চার শত কোটি টাকারও বেশী।

পাবনা সুগার মিল ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহীন জানান, বিগত ৫/৬ মাস এই মিলের শ্রমিক কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন বাবদ মিলের কাছে ৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ অবস্থায় মিল বন্ধের খবরে সকলে হতাশ হয়েছেন।

বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন মিল বন্ধ ঠোকাতে গত ১৬ নভেম্বর ফেডারেশনের যৌথসভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাবনা সুগার মিলের এমডি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, অফিসিয়ালি চিঠি পাইনি তবে মৌখিক ভাবে শুনেছি পাবনা সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাবে। চলতি মাড়াই মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসেনি।

বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা বলেন, মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের। করপোরেশন থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে গেজেট করার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত