ভ্যানচালক হত্যা মামলায় শ্যালিকার প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

ভ্যানচালক হত্যা মামলায় শ্যালিকার প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। (ফাইল ছবি)

খুলনায় ভ্যানচালক ইমরান সরদার (৪২) হত্যা মামলায় নিহতের শ্যালিকার প্রেমিক আমীর আলী মীর ওরফে কাউসারকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এক হাজার টাকা জরিমানা ও দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপরে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি কাউসার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাউসার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের আফসার আলী মীরের ছেলে।

আরও পড়ুন: না ফেরার দেশে অভিনেত্রী লীনা

আদালত সূত্র জানায়, রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের ইউসুফ সরদারের ছেলে ভ্যানচালক ইমরান সরদারের শ্যালিকা লতার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের কাউসারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনাটি ইমরান জানতে পেরে কাউসারকে শ্যালিকা লতার সঙ্গে প্রেম করতে বাধা দেয়। এতে সে ইমরানের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে ইমরান ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। ওই রাতে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরের দিন সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নন্দনপুর-জোয়ালবাঁধাল রাস্তার পার্শ্ববর্তী একটি সুপারি বাগান থেকে ইমরানের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে। তবে ওই সময় তার ভ্যানটি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহত ইমরানের পিতা ইউসুফ সরদার বাদী হয়ে রূপসা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ কাউসারকে গ্রেফতার করলে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ২ জুলাই রূপসা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) শাহিনুর রহমান কাউসারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ৩২জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জন্য সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক ও অ্যাডভোকেট এম ইলিয়াস খান। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসিনা আক্তার।

ইত্তেফাক/বিএএফ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত