ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তদন্তে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার 

ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তদন্তে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার 
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা [ছবি: ইত্তেফাক]

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ হলরুমে চেয়ারম্যান ও ইউএনও'র উভয় পক্ষের অভিযোগকারীদের লিখিত-মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা। এসময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল ইসলাম তার সাথে ছিলেন।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দের অভিযোগে ইউএনওসহ ১৮ জন অফিসার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে ৩৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর।

তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভূঞা বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে নয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঘটনার তদন্তে এসেছি। অনেকের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করেছি। পর্যালোচনা করে দেখে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

অভিযোগে আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিধিবিধান ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে কাজের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই দফতরের কর্মকর্তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেন চেয়ারম্যান।

গত ১২ নভেম্বর মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। যা বিধি সম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকচ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক দিয়ে খুলতে গেলে তার ছবি তোলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একইসঙ্গে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয় ‘(বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দেবো। উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পত্তি, উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি?)’। এভাবে গালমন্দ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৫ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় জিডি (নং ৫৫৮) করেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একই দিন যৌথ স্বাক্ষরিত উপজেলার রাজস্ব তহবিলের ব্যাংক হিসাবের ১৯টি চেকের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। যা নিয়েও আদিতমারী থানায় জিডি (নং ৫৫৯) করেন উপজেলা পরিষদ স্টোনোটাইপিস্ট হাবিবুর রহমান।

একই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনও'র বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় জিডি করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। ইউএনওসহ অফিসারদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। ইউএনও'র নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানান তিনি। ঘটনার পর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ দিকে ৯ দফা অভিযোগ তুলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের প্রতি অনাস্থার প্রস্তাব তুলে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন উপজেলার ৮ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

ইত্তেফাক/এমআর

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত