সরকারি বিল দখল করে দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণের অভিযোগ

সরকারি বিল দখল করে দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণের অভিযোগ
সরকারি বিল দখল দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণের অভিযোগ।ছবি: গুগুল ম্যাপ থেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে সরকারি বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে কোটি টাকার মাছ আহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর অন্য আরেকটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ভাদুঘর এলাকার বোয়ালিয়া বিলটি বাংলা ১৪২৫ সন থেকে ১৪৩০ সন পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য ইজারা নিতে সর্বোচ্চ দর দেয় বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও বিলটি বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে না দিয়ে ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ছায়াবিথীকে ইজারা দেওয়া হয় বোয়ালিয়া বিলটি। পরবর্তীতে বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষ বিলটি ইজারা পেতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৯৩৩২/২০১৮) দায়ের করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০জুলাই উচ্চ আদালত এক আদেশে ছায়াবিথীর ভোগ-দখলে থাকায় বাংলা ১৪২৫ এবং ১৪২৬ সনের জন্য ছায়াবিথীর নামে ইজারা বহাল রাখেন। আর ১৪২৭ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে ১৪৩০ সনের চৈত্র মাস পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামের ইজারা দেয়ার জন্য আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে ছায়াবিথী কর্তৃপক্ষ। ফলে বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ইজারা মূল্য পরিশোধ করতে পারেনি। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে বিল ইজারা দেওয়ার আদেশ স্থগিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বাড়ায়নি আপিল বিভাগ। এরপর বোয়ালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আদালতের আদেশ মতে বিল ইজারা নেয়ার জন্য নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে গত ৩০জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা মূল্যে নেননি। পরবর্তীতে গত ২জুলাই বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন। গত ১০নভেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ভাদুঘর বাজারে গিয়ে বোয়ালিয়া বিলটি সরকারের দখল-নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মাইকিং করে স্থানীয়দের অবগত করেন। বিলে কেউ প্রবেশ করে মাছ আহরণ করতে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এসময় জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম নেহার, বাছির মিয়া, জসিম উদ্দিন, মহসিন, গাবদ্দিন মিয়া, ছোটন মিয়া, শুক্কর আলী, সামছু মিয়া, ইকবাল মিয়া, হারিজ মিয়া, মিজান মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. মাহবুব মিয়া ও সাকিল মিয়া প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে গত ১৩নভেম্বর বোয়ালিয়া বিলে বাঁধ দেয় এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ আহরণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় বলে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া বিল থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার মাছ আহরণ করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরো পড়ুন: ২০২১ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে

ছায়াবিথী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল হক বলেন, তার ষ্ট্যাটাসকো রয়েছে। জোর করে তিনি বিলে বাঁধ দেননি। লাইনমতেই তিনি বাঁধ দিয়েছেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, উচ্চ আদালতের স্ট্যাটাসকো বিদ্যমান থাকায় আমরা কিছু করতে পারছিনা। আগামী ২৬ নভেম্বর আদালতে পরবর্তী শুনানি হবে। শুনানির পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ইত্তেফাক/এএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত