খেলার মাঠ বাঁচাতে কোমলমতি শিশুদের আকুতি

খেলার মাঠ বাঁচাতে কোমলমতি শিশুদের আকুতি
দখল হওয়া নিজেদের খেলার মাঠ দেখছেন শিশুরা। ছবি: ইত্তেফাক

ইউসুফ আলী, আইনাল হক, আবির হোসেন, ইব্রাহিম, মাহিন, পলাশ ও আসাদ হোসেন সকলে শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি সিংড়া উপজেলার তাল গাছের গ্রাম হিসেবে পরিচিত ছোট চৌগ্রামে। সকলেই কোমলমতি শিক্ষার্থী।

৮২নং ছোট চৌগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের খেলাধুলা করে সময় কাটে। কিন্তু সম্প্রতি স্কুল মাঠ দখল করে বালু উত্তোলন করছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দিক। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। তাই শিক্ষার্থীরা তাদের একমাত্র খেলার মাঠ বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছে।

সিংড়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পিডিপি-৪ পজেক্টের অতিরিক্ত ক্লাস রুম হিসেবে ৪রুম বিশিষ্ট কোটি টাকা ব্যয়ে একতলা একটি ভবন নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএন ট্রেড, বলারিপাড়া নাটোরের ঠিকাদার মীর্জা খোকন। তবে কাজটি সাব-কন্ট্রাকে করছেন সিংড়ার মেসার্স তুষার কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।

রবিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল মাঠের তিন পাশে বোরিং করে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ১২টি পয়েন্ট থেকে পাইপ দিয়ে বালু উত্তোলনে বেশ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাঠ দেবে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে খেলাধুলা করতে পারছে না এলাকার কোমলমতি শিশুরা।

স্থানীয় কৃষক মো. আজাদ বলেন, এখান থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন স্কুল সভাপতি ও গ্রাম্য প্রধানরা। এখন মাঠ নষ্ট হলেই বা আমাদের কি? আর শিক্ষার্থীদের কথা কে বা চিন্তা করবে? মাঠ নষ্ট করে মাটির নিচ থেকে হাজার হাজার টন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৫নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. মোকাদ্দেস আলী স্কুল মাঠ নষ্ট করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সভাপতির নির্দেশে এই বালু উত্তোলন হচ্ছে। পরে সেখানে ঠিকাদারের মাটি কেটে দেয়ার কথা রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তার কথার কোন কর্ণপাত করা হয়নি।

সিংড়া উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের খেলার মাঠ। এখান থেকে বালু উত্তোলন করার তার কোন এখতিয়ার নেই। আর বালু কোথায় থেকে আসবে সেটা ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার জানে। তাছাড়া কাজ তো আমি করছি না বলে জানান তিনি।

ঠিকাদার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রতিনিধি হিসেবে এই কাজ তিনি দেখাশোনা করছেন। আর এই কাজে আরো পাটনার রয়েছেন। তাছাড়া কাজের স্বার্থে ও স্কুল সভাপতি নির্দেশে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পুনরায় ভরাট করেও দেয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, পিডিপি-৪ পজেক্টের অতিরিক্ত ক্লাস রুম হিসেবে ৪রুম বিশিষ্ট একটি ভবন হচ্ছে। কাজ যথা নিয়মে হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সেখানে বালু উত্তোলনের কোন সম্মতি বা নির্দেশনা নেই বলে জানান তিনি।

আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল হাসান স্কুল মাঠ নষ্ট করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন।

ইত্তেফাক/এসআই

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত