অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করতোয়া

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করতোয়া
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত করতোয়া। ছবি : ইত্তেফাক

শীতের আগমনের সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের যমুনা ও চলন বিল এলাকার বিভিন্ন নদ -নদীতে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশের শাহ শরীফ জিন্দানী (র.) এর পুন্যভুমি নওগাঁয় ছোট করতোয়া নদীতে এবারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এ দিকে অতিথি পাখির আগমনের সাথে সাথে চোরা শিকারীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে পাখি শিকারে।

জানা গেছে, এক সময় এই এলাকায় প্রচুর অতিথি পাখি আসতো। কিন্তু অবাধে পাখি শিকারের ফলে পাখি আসা অনেটাই কমে গিয়েছিল। তবে গত ১/২ বছর ধরে আবারও অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে যমুনাসহ চলন বিল এলাকায়। শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশ বিশেষ করে সাইব্রেরীয়া থেকে বালিহাঁস, খয়রা, পানকৈর, চকাচকি, বুনোহাঁস, কাদাখোঁচা ও সরালি বিভিন্ন ধরনের এখানে আসতে শুরু করেছে।

গত ১/২ বছর থেকে চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছির জয়সাগর ও নয়াপুকুর, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁওয়ে অবস্থিত ছোট করতোয়া ও মথুরাদিঘীতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছোট করতোয়া নদীতে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ভেসে বেড়াচ্ছে। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে এ এলাকা। দলে দলে পাখিরা পানিতে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। আহারে বিরতি দিয়ে ছোট পানকৌড়ি বসছে নদীর তীরে গাছের ডালে। দিনভর নদীতে খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে সাদা বক, ধূসর বক ও মাছরাঙা। মাঝে মধ্যে গাঙচিলের আক্রমণে ঝাঁক বেঁধে উড়ে উঠছে পাখিগুলো। সব মিলিয়ে করতোয়া এখন বিভিন্ন প্রজাতির আগমনে মুখরিত।

জেলার তাগাশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বাবলু বলেন, গত বছরের মতো এ বছর অনেক পাখি খাবারের আশায় চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় এসেছে। তবে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা জড়ো হচ্ছে করতোয়া নদীতে। এখানে গাছপালা বেশি থাকায় পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় মনে করে। একই সাথে আমরা পাখি শিকার না করার ব্যাপারে একমত হয়েছি। সবাই মিলে অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখির একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছি তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

যমুনা তীরবর্তী বেলুটিয়া চরের সাইফুল ইসলাম জানান, এবছর যমনোর চর গুলিতে বেশ পাখি দেখা যাচ্ছে। তবে পাখি শিকারীরা এই পাখিগুলি অবাধে শিকার করার ফলে হয়তো আগামীতে এখানে আর পাখি আসবে না।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে জরুরি কাজ হচ্ছে পাখিদের কোনোভাবে বিরক্ত না করা। এ ছাড়াও এই এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে বিলবোর্ড, লিফলেট বিতরণ করা দরকার। আমরা এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশবাদী সংগঠন দি বার্ড সেপ্টি হাউস এর চেয়ারম্যন মামুন বিশ্বাস জানান, আমরা ইতিমধ্যেই যে সব এলাকায় অতিথি পাখি এসেছে সে সব এলাকায় পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ সভা করছি। ইতিমধ্যেই জেলার শাহজাদপুর এলাকায় কিছু পাখি উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অবমুক্ত করেছি।

তিনি আরও জানান, এই সব অতিথি পাখির নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যেগী হতে হবে।

ইত্তেফাক/কেকে

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
close