চুরির অভিযোগে শিশু গৃহকর্মীর গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে ছ্যাঁকা

চুরির অভিযোগে শিশু গৃহকর্মীর গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে ছ্যাঁকা
প্রতীকী ছবি

রংপুরের আদর্শপাড়া এলাকায় টাকা চুরির অভিযোগে শিশু গৃহকর্মীর গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দন্ত চিকিত্সক দম্পতির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, শিশুটির মাকে ডেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এলাকাবাসী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে দেয়।

এদিকে, কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের চিকিত্সক শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ শিশুটিকে ভর্তি না করে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আবারও শিশুটিকে নিয়ে তার মা নিজের বাড়ি কিশোরগঞ্জে চলে গেছেন। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের ভিক্ষুক মৃত বাছেদ আলী ফকিরের মেয়ে আঁখিমণি (১২)। আঁখিমণির মা শিরিনা খাতুন জানান, প্রতিবেশী ডালিম চন্দ্র রায় আঁখিমণিকে চিকিত্সক দম্পতি কান্তা বেগম ও রেজাউল বারীর বাসায় নিয়ে যান। তাদের বাসা রংপুর নগরীর আর্দশপাড়া মহল্লায়।

শিরিনা খাতুন জানান, ‘গত ২৮ নভেম্বর ডালিম চন্দ্র রায় আমাকে ঐ দম্পতির বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে গেলে তারা জানায়, আমার মেয়ে নাকি টাকা চুরি করেছে। তাই তারা তাকে আর বাসায় রাখবে না। ওখানেই আমার মেয়ে বলে, সে টাকা চুরি করেনি। তবু বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক নির্যাতন ও গোপনাঙ্গে গরম ছ্যাঁকা দেয়। এ অবস্থায় ঐ দন্ত চিকিত্সক ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নিয়ে মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেয়। আমি মেয়েকে নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। মেয়ের শরীর খারাপ হলে গ্রামবাসীকে ডেকে বিস্তারিত জানাই।’

গ্রামের নুরউদ্দিন আলী জানান, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানাই। এরপর কিশোরগঞ্জ থানার পুলিশ এসে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।’ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক সাবির হোসেন সরকার জানান, শিশুটির সারা শরীরে ও গোপনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে। সে কারণে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে দন্ত চিকিত্সক কান্তা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটি টাকা চুরি করেছে। ওর মাকে ডেকে আনলে মেয়েটির মা তাকে মেরেছে, আমরা মারিনি বা নির্যাতন করিনি। তবে নির্যাতনের শিকার আঁখিমণি কান্না করে বলে, ‘ঐ দাঁতের ডাক্তার, ডাক্তারের স্বামী রেজাউল বারী, তার মা খালেদা বেগম আমাকে নির্যাতন করে এবং গোপনাঙ্গে গরম ছ্যাঁকা দেয়।’

এদিকে সোমবার বিকালে গুরুতর অসুস্থ আঁখিমণিকে তার মা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু তাদের ভর্তি না করে উলটো নানা ধরনের হুমকি দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আঁখিমণিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল রংপুর নগরীর আদর্শপাড়া মহল্লায় এবং ঐ এলাকা রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের অধীন, সে কারণে এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় জানতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা বিষয়টি জানেন না।

ইত্তেফাক/বিএএফ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত