ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ

গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই
ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ
জাঠিভাঙ্গা বদ্ধ ভূমি, ঠাকুরগাঁও। ছবিঃ ইত্তেফাক

আজ ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। এ অঞ্চলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই পিছু হটতে শুরু করে পাকিস্তানি সৈন্যরা। তাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে আজকের এই দিনে।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবর আর বধ্যভূমি। আজ পর্যন্ত গণকবরগুলো সংরক্ষণের নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ড আব্দুল মান্নান বলেন, ঠাকুরগাঁও তখন ছিল মহকুমা। বর্তমান ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার ১০টি থানা ছিল এই মহকুমার অন্তর্গত। ২ ডিসেম্বর রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ৩ ডিসেম্বর ভোররাতে ঠাকুরগাঁও শত্রুমুক্ত হয়। সকাল থেকেই শহরে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বের হয় আনন্দ মিছিল। জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এ অঞ্চলের জনপদ। হাজার হাজার মানুষ উদ্বেলিত কণ্ঠে ‘জয়বাংলা’ বলতে বলতে মুক্ত শহরের রাস্তায় বের হয়ে আসে। এ সময় অনেকের হাতে ছিল প্রিয় স্বদেশের পতাকা।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ জানান, ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল শুকানপুর ইউনিয়নে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ লোককে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে। শুকানপুকুরী বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি। মুক্তিযোদ্ধা রাজাগাঁও ইউনিয়নের বিমলা রানি বলেন, ‘খরিলুপের বাড়ি থেকে আসিল হামার বাড়ি। হামরা সবাই দৌড়াদৌড়ি করে পালানো, কিন্তু হামাক সবাকে ধরে নিয়ে আসিছিল। সবাকে লাইন করে মারিক ৩১ জন ছিল। ঐ সময় মুই গর্ববতী ছিনু মিলিটারি বন্দুনটা দিয়ে মোর পেটটাত গুতা দিছে আর মুই কিছু কহিবা পারু না।’

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদ্দুরুদোজা বদর বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শহিদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুই-একটি জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও সেগুলো অযত্ন আর অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত