লালমনিরহাটে দেখা মিলল হামিংবার্ডের

লালমনিরহাটে দেখা মিলল হামিংবার্ডের
হামিংবার্ড [ফাইল ছবি]

জেলার আদিতমারী থানার মুল ফটকের পাশের বাগানে হাসনাহেনা ফুলের মনোমুগ্ধকর মিষ্টি সুগন্ধে ক্যাম্পাস মৌ-মৌ করছে। এক বিকেলে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার চোখ পড়ে ফুলের থোকার ওপর। সেখানে এক জোড়া ছোট চঞ্চল পাখি উড়ে-উড়ে ফুলে ঠোঁট ঢুকিয়ে মধু খাচ্ছে। পরে তারা বুঝতে পারেন এই পাখিগুলো শীতের দেশের পাখি হামিংবার্ড। এই পাখি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ও বিরল পাখি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার একটু আগে জেলার আদিতমারী থানার মুল ফটকের বাগানের হাসনাহেনা গাছে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ও বিরল পাখি হামিংবার্ড দেখা মিললো। আদিতমারী থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম ও বিরল পাখি হামিংবার্ড প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তাবস্থায় থানা চত্বরে দেখে বিস্মিত হয়েছি। একই সাথে আনন্দিত হয়েছে। পাখিটিকে নিরাপদ আশ্রয় স্থল দিতে কোলাহল মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, দেখি সেখানে পুনরায় ফিরে আসে কিনা।

এ সময় আদিতমারী থানার এসআই মাজমুদুল পাখির স্থির ও ভিডিও তুলেন। তবে পাখিটি এতো বেশি চঞ্চল তাই স্পষ্ট স্থির ছবি মোবাইলে তুলা প্রায় অসম্ভব। এস আই মাজমুদল জানান, এক জোড়া বড়-বড় মৌমাছির মত দেখতে পাখি এখানে উড়ে-উড়ে মধু খাওয়ার দৃশ্য দেখেছি। ছবি ও ভিডিও তুলে রেখেছি। পরে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখে এই পাখি দুইটি বিরল প্রজাতির শীতের দেশের পাখি হামিংবার্ড।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুল রহমান জানান, হামিংবার্ড বাংলাদেশের জঙ্গলে আছে। পুরাতন ঝোপঝাড় ও ফুলের বাগানে মধু খেতে তারা আসে। আমাদের দেশে পাখিটি তেমন সচরাচর দেখা যায়না। এটা একটি বিরল প্রজাতির পাখি। করোনায় পরিবেশের দূষণ মুক্ত ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় তাদের জনসম্মুখে দেখা যেতে পারে। হামিংবার্ড পৃথিবীর সব থেকে ক্ষুদ্রতম পাখি। যেটি বাংলাদেশে বিরল প্রজাতি। হিমালয়ের পাদদেশ লালমনিরহাট ও পাশের জেলা পঞ্চগড়। শীতে এরা এখানে খাবারের সন্ধানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসে। বাংলাদেশে প্রায় সাত শত প্রজাতির পাখি আছে। পরিচিতি আছে এমন পাখি সম্পর্কে খুব ধারণা আছে।

পৃথিবীর সব থেকে ক্ষুদ্রতম পাখির নাম হামিংবার্ড। ক্ষুদ্রতম এ পাখি হামিংবার্ড উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় দেখা মেলে। ৩০০ অধিক প্রজাতি রয়েছে তাদের। সব থেকে ছোট আকৃতির হামিংবার্ড পাওয়া যায় কিউবায়। এর দৈর্ঘ প্রায় আড়াই ইঞ্চি, ওজন দুই গ্রামের নিচে। এরা বিরতিহীন ভাবে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। হামিংবার্ড প্রতি সেকেন্ডে ১২-৯০ বার ডানা ঝাপটাতে পারে।

এই পাখি খুব দ্রুততম সময়ে সামনে, পিছনে, উপরে ও নিচে উড়তে পারে। মনে হয় খাবার খেতেই এদের জন্ম হয়েছে। হামিংবার্ড বেশ শক্তিশালী পাখি। এদের ঠোঁট বেশ লম্বাকৃতির হয়। ফুলের মধুই এদের প্রধান খাদ্য। ফুল থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রেখে শূন্যে উড়ে উড়ে ফুলের মধু লম্বা ঠোঁট ঢুকিয়ে খেয়ে নেয়। একটি হামিংবার্ড দৈনিক ১ হাজার ৫০০ ফুলের মধু খেয়ে থাকে। এ পাখি বাংলাদেশে বিরল। দিনের অধিকাংশ সময় এরা ফুলের মধু খেয়ে কাটিয়ে দেয়। এদের পাখা ঝাপটানোর বৈশিষ্ট্য এদের শরীরে শক্তি যোগাতে খাদ্যের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পাখি সৌখিন ভাবে বাসা বাড়িতে পোষা একে বারেই অসম্ভব। তাদের খাদ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া তাদের ব্যতিক্রম করে রেখেছে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x