বিলুপ্তির পথে কুলাউড়ার চুঙ্গা পিঠা

বিলুপ্তির পথে কুলাউড়ার চুঙ্গা পিঠা
চুঙ্গা পিঠা বানানোর জন্য ডলু জাতীয় বাঁশ দেখছেন একজন। ছবিঃ ইতেফাক

সিলেটবাসীর কাছে শীতকালের অন্যান্য পিঠার মধ্যে “চুঙ্গা পিঠা” অন্যতম। কুলাউড়া উপজেলার সেই ঐতিহ্যবাহি চুঙ্গা পিঠার বাঁশ এখন দুর্লভ এবং দুর্মূল্য। শীত মৌসুমে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন বাজারে প্রচুর পরিমানে চুঙ্গা পিঠার বাশঁ দেখা যেত। এখন সেই পিঠার বাঁশ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

বাজার গুলিতে চুঙ্গা পিঠার বাঁশের আমদানি কাল ক্রমে কমতে শুরু করছে। চাহিদা বেশি হওয়ার কারনে এখন মূল্যও বেড়েছে কয়েক গুন। ২০টি চুঙ্গা মূল্য বর্তমানে ২০০টাকা, আগে ছিল ২০টি চুঙ্গা বাঁশের মূল্য ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকা। উপজেলার নিকটবর্তী ষাড়েরগজ পাহড়ে এখন চুঙ্গা পিঠার বাঁশ সহজে পাওয়া যায় না, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাদের কে যেতে হয় গভীর জঙ্গলে।

চুঙ্গা পিঠার অতীত ইতিহাস প্রসঙ্গে পর্যালোচকরা জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে নাগা, কুকি, গারো সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপজাতি পাহাড়ি জনগোষ্টি অবস্থান করতো। তারা জুম চাষ করতো। জুমে উৎপাদিত বিরইন (বিন্নি) ধান থেকে চাল সংগ্রহ করে “ডলু” জাতীয় বাঁশ কেটে চুঙ্গা তৈরি করে সেই চুঙ্গা চাল ঢুকিয়ে আগুনে পুড়ে ভাত তৈরি করতো। কালক্রমে সেই চুঙ্গা এবং বাঁশ পাহাড়ের সীমানা থেকে সিলেটবাসী বাঙ্গালিদের ঘরে ঘরে চুঙ্গা পিঠা হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাঁশের মধ্য থেকে বেড়িয়ে আসা একটি মনোরম গন্ধ সিলেট বাসীকে ক্রমেই আকর্ষনীয় করে তুলে। এই পিঠা মাছ, দুধ, খেজুরের গুড়সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে খেতে সুস্বাদু।

ইতেফাক/এনএ

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত