সাবেক এমপি বদিকে পিতা দাবি মামলার শুনানি পেছালো

সাবেক এমপি বদিকে পিতা দাবি মামলার শুনানি পেছালো
সাবেক বিতর্কিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং বদির সন্তান দাবিদার ইসহাক।

উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদিকে নিজের বাবা দাবি করে এক যুবকের দায়ের করা মামলার দিন ধার্য থাকলেও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। মামলায় জারি করা সমনের চিঠি আদালতে ফেরত না আসায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী।

মামলার মূল আসামি বদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এ মামলার শুনানির দিন ছিল।

বাদীর আইনজীবী কফিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক ইস্যু করা সমন এখনো ফেরত আসেনি। তাই মামলার নির্ধারিত দিনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। যেহেতু সমন ফেরত আসেনি সেহেতু আসামি সময় পেয়েছেন। জারি করা সমন ফেরত আসার পর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

এদিকে মামলার আসামি আবদুর রহমান বদি আদালতে উপস্থিত না হলেও উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী মো. ইসহাক ও তার মা, বদির প্রথম স্ত্রী দাবিদার সুফিয়া খাতুন।

মোহাম্মদ ইসহাক সাংবাদিকদের বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এরপরও, আমার বাবাকে সামনাসামনি দেখবো বলে বুকভরা আশা নিয়ে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার বাবা সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি সাহেব আদালতে আসবেন। কিন্তু তিনি না আসায় আমি হতাশ।

তিনি আরও বলেন, ওনার কাছ থেকে আমি সহায়-সম্পদ চাই না। আমি শুধু আমার পিতৃ পরিচয় ও পিতার অধিকার চাই। আমি জন্মদাতাকে (বদিকে) বাবা ডেকে মনের অস্থিরতা কাটাতে চাই।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ৩০ বছর আগে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ ধুমপাড়ার বাসিন্দা আবুল বশরের মেয়ে বাদীর মা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন বদি। সেই সূত্রেই বদির প্রথম ছেলে তিনি।

মামলায় বদি ছাড়াও বিবাদী করা হয়েছে বদির চাচা টেকনাফের পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলামকে। ওই দিন মামলাটি আমলে নিয়ে মূল বিবাদী আব্দুর রহমান বদিসহ বিবাদীদের ১৪ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক।

আরও পড়ুনঃ সাকরাইন উৎসবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার ২৭ বছর বয়সী যুবক মোহাম্মদ ইসহাক কক্সবাজার-৪ আসনের (উখিয়া-টেকনাফ) সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে নিজের পিতা দাবি করে টেকনাফের সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বদি ছাড়াও মূল-বিবাদী করা হয়েছে বদির চাচা টেকনাফের পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলামকে। ওইদিন মামলাটি আমলে নিয়ে মূল-বিবাদী আব্দুর রহমান বদিসহ বিবাদীদের ১৪ জানুয়ারি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিবাদীরা আদালতে হাজির হননি। সমন না পাওয়ার কথা বলে তারা আদালতে আসেননি বলে জানিয়েছে সূত্র।

মোহাম্মদ ইসহাক তার মামলায় দাবি করেন, গত ৩০ বছর আগে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ ধুমপাড়ার বাসিন্দা আবুল বশরের মেয়ে সুফিয়া খাতুনকে সাবেক সংসদ সদস্য বদি গোপনে বিয়ে করেন। বাদী তার মায়ের পেটে আসার খবর জানতে পেরে তাকে পেটে থাকতে হত্যার চেষ্টা চালান বদি। তাতে সফল না হয়ে সুফিয়াকে স্থানীয় এক রাজ মিস্ত্রীর সাথে বিয়ে দেয়া হয়। এসময় সুফিয়ার পেটে বাচ্চা থাকার কথা গোপন রাখা হয়। পরে জানতে পেরে সেই স্বামী সব মেনে নিয়ে সংসার করেন। এরপরও বাচ্চাসহ সুফিয়াকে হত্যার চেষ্টা করতো বদির পরিবার। এজন্য তারা প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে জীবন ধারণ করে। এসব বিষয় উল্লেখ করে সুফিয়া সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। তাদের দাবি ইসহাক বদির সন্তান, তাকে যেন মেনে নিয়ে সন্তানের মর্যাদা দেয়া হয়। বাদী ও তার মায়ের দাবি অনুসারে আব্দুর রহমান বদির প্রথম সন্তান ইসহাক। তার অবয়ব, আচরণ সবকিছু বদির অবিকল কপি বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।

ইত্তেফাক/এমএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত