ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সালেহপুর সেতুতে ফাটল

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সালেহপুর সেতুতে ফাটল
সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় মহাসড়কে যানজট। ছবি: ইত্তেফাক

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকার সালেহপুর সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুর একপাশ দেবে যাওয়ায় সে পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অন্য পাশ দিয়ে যান চলাচল করানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এর ফলে মহাসড়কে সারাক্ষণই যানজট লেগেই থাকছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পাশাপাশি দুটি সেতুকে দুটি লেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঢাকাগামী সেতুটির একপাশ দেবে গেছে এবং সেতুর নিচের আটটি বিমের মধ্যে চারটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি বুধবার সন্ধ্যার পর সওজের নজরে আসার পর সেতুর ঢাকাগামী লেনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে একটি লেন ব্যবহার করেই পুলিশ সদস্যরা ১০ মিনিট পর পর সাভার থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে সাভারগামী যানবাহন পারাপার করছেন।

এতে বুধবার রাত থেকে সেতুটির দুই পাশে ৬ কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাই যানজট এড়াতে সেতুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই পথ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে এক লেইন বন্ধ করে (সাভার থেকে ঢাকাগামী) সংস্কারের কাজ শুরু করেছে ঢাকা সড়ক বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান জানান, সেতুটির সাভার থেকে ঢাকাগামী লেনের অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুটি দ্রুত মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সওজ এর ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, সালেহপুরে দুই লেইনের দুটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে সড়কের পূর্বপাশের সেতুটির (সাভার থেকে ঢাকাগামী লেইন) এক পাশের গার্ডারে (ভিম) ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সাথে সেতুটির এক পাশে অনেকখানি দেবেও গেছে। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি সাভার ও দেশের উত্তর- দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনায় গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমরা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। কাজ শেষ হতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। তবে যতদ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।

ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মারুফ হাসান জানান, সেতুটির যেই অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে সেটি মূলত ৭০ এর দশকে নির্মিত। সাধারণত এ জাতীয় কোন সেতু নির্মাণের পর তার আয়ুষ্কাল ৫০ বছর ধরা হয়। আমরা এমনিতেও সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তবে কিছু জটিলতার কারণে কাজটি এখনো শুরু করা যায়নি”। প্রাথমিকভাবে আমরা আমাদের প্রকৌশলী ও পরামর্শকদের নিয়ে সেতুটি পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ অংশের লেনটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করছি সংস্কারের মাধ্যমে অতি দ্রুত সেতুটির ওই লেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।

ঢাকা জেলা পুলিশের (উত্তর) পরিদর্শক (প্রশাসন) মোঃ আব্দুস সালাম জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুটির একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইত্তেফাক/এসআই

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত