রৌমারীতে রাস্তাবিহীন পাঁচ গ্রাম, দুর্ভোগে জনবসতি

রৌমারীতে রাস্তাবিহীন পাঁচ গ্রাম, দুর্ভোগে জনবসতি
রাস্তাবিহীন পাঁচ গ্রামের মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল। ছবি: ইত্তেফাক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা রাস্তাবিহীন পাঁচটি গ্রামের মানুষের চলাচল ও মালামাল পরিবহন কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা না থাকায় উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের চর বারবান্দা, ভুন্দরচর, পূর্ব ইজলামারী, চর ফুলবাড়ী নয়ারচরসহ ৫ টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরবারবান্দা গ্রামের নুরুল আমিনের দোকান থেকে চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৩০০ মিটার রাস্তা না থাকায় গ্রামবাসী, স্কুল শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীসহ পাঁচ গ্রামের সকল পেশাজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়াও বর্তমান সরকার মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা করার লক্ষ্যে ভবন সম্প্রসারণ জন্য চরবারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ দিলেও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করার জন্য রাস্তা না থাকায় নির্মাণ কাজে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

চরবারবান্দা গ্রামের শিক্ষার্থী রুবেল, হামিদা, সাকিল বলেন, রাস্তা না থাকায় আমরা কোথাও যেতে পারিনা, পায়ে হেঁটে যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা রাস্তাটি দ্রুত প্রশস্ত করে নির্মাণ করার জন্য দাবি করছি।

চরবারবান্দা গ্রামের হাবিবুর রহমান, রহম আলী, লালমিয়া বলেন, গতবছর গ্রামবাসী মিলেমিশে জমির আইল দিয়ে চার ফুট প্রস্থ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটাও এবার জমির মালিকগণ রাস্তার বেশি অংশই কেটে ফেলেছে। যানবাহন তো দুরের কথা মানুষও ঠিকা মতো পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারে না।

সাবেক মেম্বর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি জমির মালিকদের বলে চার ফিট রাস্তার ব্যবস্থা করেছিলাম। এখন দেখি সেই রাস্তাটি নাই। কেন যে তারা রাস্তাটি কেটে ফেললো তা আমার জানা নাই।

চরবারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এলাকাবাসীসহ রাস্তা না থাকায় কষ্ট করে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করি। আমি আমার জমিতে দিয়ে তিল তিল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়েছি। সরকার প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ করে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন দিয়েছে। রাস্তা না থাকায় ভবনের নির্মাণ কাজের মালামাল আনতে পারছে না ঠিকাদার। আমাদের একটাই দাবি রাস্তা নির্মাণ করে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের যাতায়াত ও ভবনটি নির্মাণ কাজের মালামাল পরিবহন করতে শিক্ষা বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি।

এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই, উপজেলা প্রশাসন থেকে রাস্তার তালিকা আমাদের কাছে আসলে রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এলাকাবাসী একটি আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x