শিবচরে হাইটেক পার্কের নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৭ দিনের সময় দিলো প্রশাসন

শিবচরে হাইটেক পার্কের নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৭ দিনের সময় দিলো প্রশাসন
হাইটেক পার্ক নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। ছবি: ইত্তেফাক

মাদারীপুরের শিবচরে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি অ্যান্ড হাইটেক পার্ক নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সভা করে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সোমবার উপজেলার কুতুবপুরের কেশবপুর এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে এ সভা আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

সভায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন। ক্ষতিগ্রস্থরা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, বিল উত্তোলনে ভোগান্তি লাঘব ও দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষার আবেদন করেন। ৭দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থরা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অতিরিক্ত দায়িত্ব অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা ইয়াসমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আ. লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা প্রমথ রঞ্জন ঘটক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শাজাহান মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে উপজেলার কুতুবপুরের কেশবপুরে আইসিটি মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি অ্যান্ড হাইটেক পার্ক নির্মাণে ৭০.৩৪ একর জায়গা নির্ধারণ করে। এরপর থেকেই নির্ধারিত এই স্থানে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় দালালচক্র ওই এলাকায় অবৈধ ঘর-বাড়ি বাগান খামার স্থাপন শুরু করে। সম্প্রতি আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি হুকুম দখলের প্রস্তাব করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় অবৈধ ঘর বাড়ি বাগান খামার স্থাপন আরও বেড়ে যায়।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী বলেন, ‌‘এ প্রকল্পকে ঘিরে দালাল চক্র অপতৎপরতা শুরু করেছিল। সে ব্যাপারে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়ে সভা করলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে চিফ হুইপের কঠোর হস্তক্ষেপে তাত পল্লীর নির্ধারিত এলাকা থেকে শত শত অবৈধ স্থাপনা প্রশাসন উচ্ছেদ করায় সরকারের শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল।’

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘এটি এ অঞ্চলের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রকল্পটি নির্ধারণের সময়কার আগের ভিডিও ও ছবি রয়েছে আমাদের হাতে। এরপর অনেকে অবৈধ স্থাপনা বাগান খামার করেছে। সেগুলো অপসারণে এ সভা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না হলে অন্যত্র প্রকল্প সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু হবে।’

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x