আসামিকে ছাড়াতে তদবির করতে গিয়ে গ্রেফতার 

আসামিকে ছাড়াতে তদবির করতে গিয়ে গ্রেফতার 
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেফতার শহিদ। ছবি: ইত্তেফাক

ডিআইজির ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে থানা পুলিশের উপর চাপ প্রয়োগ করে অস্ত্র চুরির মামলার আসামিকে থানা হাজত থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসে গ্রেফতার হলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণকারী ঘটনার হোতা শহিদ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। গ্রেফতার শহিদ ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার কামদেপপুর থানার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি ফতুল্লা থানার রেলস্টেশন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: অর্ধ লাখ ইয়াবা আত্মসাৎ, নারায়ণগঞ্জে ওসি কারাগারে

জানা যায়, ফতুল্লা থানা পুলিশের অস্ত্র চুরির মামলার আসামি ‘ডাকাত সর্দার’ আজমীরকে অটোরিকশার চোরাই মালামালসহ বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকেই আজমীরকে ছাড়িয়ে নিতে তার পরিবারের নিকট থেকে নগদ অর্থের সুবিধা গ্রহণ করে দিনভর তদবির করে শহিদ। তদবিরে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার রাতে শহিদ ফতুল্লা থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে ওসি আসলাম হোসেনসহ উপস্থিত পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণসহ মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এসময় তিনি নিজেকে পুলিশের ডিআইজির ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের হুমকি প্রদান করে বলেও জানা যায়।

থানায় সাংবাদিকদের দেখে গ্রেফতারকৃত শহিদ বলেন যে, ‘১০ জনকে আমি ওসি বানিয়েছি, আর আজ আমাকেই কি না থাকতে হচ্ছে থানা হাজতে।’

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আজমীরসহ তার সহযোগীদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিলো। এ সময় শহিদ গ্রেফতারকৃত আজমীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসে ওসির রুমে প্রবেশ করে আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করে। শহিদকে পাশের অভ্যর্থনা কক্ষে গিয়ে বসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত ফতুল্লা থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের দেখে নেবার হুমকি দেয়।

আরও পড়ুন: সেই ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: লোমহর্ষক বর্ণনা নৌকার মাঝির

এছাড়া ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনকে উদ্দেশ্য করে শহিদ বলেন, ‘ডিআইজি, আইজির নিকট থেকে আমি যেকোনো কাজ আদায় করে নিয়ে আসি, আর আপনারা তা করলেন না। এ বিষয়ে আমি খুব মাইন্ড করলাম। আমার নাম শহিদ আমি সকলকে দেখে নেব।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, আজমীরকে ছাড়িয়ে নিতে এসে শহিদ আমাদের কাজে বাধা প্রদান ও একজন সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে দিয়ে চাঁদা দাবি করায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে আজমীর গ্রেফতারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে শহিদ নিজেকে ডিআইজির ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ মাই টিভির ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, গ্রেফতারকৃত শহিদ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের আইজি, ডিআইজির ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে স্থানীয় মহলে প্রভাব বিস্তার করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়ে আর্থিক ফায়দা গ্রহণের পাশাপাশি ফতুল্লা, রেলস্টেশন আলীগঞ্জ, পিলকুনী, তক্কার মাঠসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে মাসোহারা গ্রহণ করে আসছে।

সূত্রটির দাবি, শহিদের সঙ্গে একাধিক ডাকাতি, ছিনতাই, গ্রুপের গভীর সখ্যতা রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x