সভাপতি সেজে সরকারি কলেজে নিয়োগ দিচ্ছেন এক যুবলীগ নেতা!

সভাপতি সেজে সরকারি কলেজে নিয়োগ দিচ্ছেন এক যুবলীগ নেতা!
ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে সরকারি বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের সভাপতি দাবি করে অধ্যক্ষসহ ৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল শাহের বিরুদ্ধে ঐ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

তার বিরুদ্ধে ওএমএসের সরকারি চাল চুরির অভিযোগও রয়েছে। নিজেকে কলেজের সভাপতি দাবি করে নিয়োগ দেওয়া শুরু করলেও ২০২০ সালে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুুক্ত জালাল শাহ নিজেকে সদ্য সরকারি হওয়া এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দাবি করে ২০১২ সালের তারিখে নিয়োগদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জালাল শাহর বাড়ি উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে। সেখানেই তিনি টিনশেডের একটি কক্ষে বসে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় হাজতবাসের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাবুল আক্তার বাবুকে ভুয়া অধ্যক্ষ সাজিয়ে আব্দুল মতিন, জিয়াউর রহমান, জহুরুল হক, মিন্টু, আব্দুল মালেক, আনিসুর রহমানসহ অন্তত ৬১ জনকে শিক্ষক-কর্মচারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব লোকজন নিয়ে বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে প্রশাসনিক কার্যক্রমও চালাচ্ছেন। এদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভর্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন কলেজ ক্যাম্পাসেই।

ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক পদে জালাল শাহর থেকে নিয়োগ নেওয়া জামরুল ইসলামের চাচা শাহআলম বলেন, তারা জানতে পারেন কলেজের পুরোনো শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জালাল শাহর মাধ্যমে তার ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতো আরো অনেকেই একই পন্থায় নিয়োগ নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তমাল হোসেন বলেন, ‘সভাপতি দাবি করা জালাল শাহ এবং অধ্যক্ষ দাবি করা বাবুল আক্তারের বিষয়ে কিছুই জানি না। কেন তারা কলেজের নাম ভাঙাচ্ছেন, সে ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পরই মূল ঘটনা বলা যাবে।’

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করতে প্রতারক জালাল শাহর চাচা আব্দুর রাজ্জাক, লোকমান, বারেক ও রবিউল শাহ ১০৭ শতাংশ জমি দান করেন। সে সময় গুরুদাসপুর সামসুজ্জোহা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন প্রতিষ্ঠাতা হয়ে বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম সাঈদ অভিযোগ করেন, কলেজের নামে দেওয়া জমিটি আগেই অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন দাতাগণ। আবার জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলাও করেছেন। এছাড়া তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন একাধিকবার। কলেজের নামে ভুয়া জমি দান করা এবং জালাল শাহর উত্পাতে ১৫ সালে কলেজটি গুরুদাসপুর সদরে স্থানান্তর করা হয়। সদ্য জাতীয়করণ হওয়ায় পুরোনো শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে জালাল শাহ অবৈধভাবে নতুন করে নিয়োগ দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত জালাল শাহ লোকবল নিয়ে চাঁদার দাবিতে প্রায়শই কলেজের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটাতেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সে সময় কলেজটি গুরুদাসপুর সদরে স্থানান্তর করেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেও নামের মিল থাকায় জালাল শাহ অবৈধভাবে নিজেকে সভাপতি দাবি করে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন। অভিযুক্ত জালাল শাহ ও অধ্যক্ষ দাবি করা বাবুল আক্তার বাবু কোনো তথ্য দেননি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারেও কোনো বক্তব্য দেননি। উপরন্তু, সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা দুই জনে অশোভন আচরণ করেছেন।

ইত্তেফাক/এসসিএস

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x