রৌমারীর চরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন

কৃষকের মুখে হাসি
রৌমারীর চরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন
ক্ষেত থেকে আলু সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। ছবি : ইত্তেফাক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলে গোল আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। নতুন আলু চাষ করে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। যৌথভাবে আলু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে বেকার যুবকরা।

আবহাওয়া ভালো, দীর্ঘমেয়াদি শৈত্যপ্রবাহ না থাকায় এবং রোগ-বালাই কম হওয়ায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে এ মৌসুমে। তবে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। বিদেশে আলুর রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে নানামুখী খাবার তৈরিতে উৎসাহ সৃষ্টি করার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষক লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলায় কয়েকজন বেকার যুবক যৌথভাবে ৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছে। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০ থেকে ২৫ টন পর্যন্ত আলু উৎপাদন করছে আলু চাষিরা। উচ্চ ফলনশীল আলুর মধ্যে কারেজ, কার্ডিয়াল, স্টারিক্স, ডায়মন্ড, রুমানা, গ্রানুলা, কাবেরি আর স্থানীয় আলুর মধ্যে সাদা পাটনাই, চলিশা, শিল বিলাতি, লালপাকড়িসহ বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে। ৬০ শতকের বিঘাপ্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। উৎপাদনের পর এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ মণ পর্যন্ত। বাজারে ৫০০ থেকে ৫৭০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামের আলু চাষি আ. করিম বলেন, জীবনের প্রথম চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলুর ভালো ফলন হয়েছে। চার বিঘা জমিতে ৩২ টন আলু পেয়েছি। খরচা উঠেও অর্ধেকের বেশি লাভ হয়েছে।

উপজেলা বালিয়ামারী বাজার পাড়া গ্রামের বাদুল মিয়া ও মুকুল হোসেন বলেন, দোঁআশ মাটিতে আলু চাষ ভালো হয়। আমরা গোল আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি, বাজারে দাম ভালো পেলে লাভ বেশি হবে। ধান, পাট চাষ করে লাভ কম হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, রৌমারী অঞ্চলে আলুর চাষ খবুই কম হয়। এ অঞ্চলটি নিচু এলাকা হওয়ায় সরিষা, ধান,পাট চাষ বেশি, আলু চাষ কম। এক একর জমিতে প্রায় তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত মণ আলু উৎপাদন হয়। এবার আলু চাষে ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে ব্যাপক হারে আলু চাষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x