লোহালিয়া সেতু আট বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ

আরও দুই বছর সময় বৃদ্ধি
লোহালিয়া সেতু আট বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ
পটুয়াখালী জেলা শহর সংলগ্ন লোহালিয়া নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘ আট বছর ধরে এভাবে অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। ছবি: ইত্তেফাক

লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়নি আট বছরেও। পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের সেতুর উচ্চতার ব্যাপারে আপত্তি জানানোর কারণে প্রথম জটিলতার সৃষ্টি হয়। সেতুর ডিজাইন সংশোধন করে পুনরায় কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও করোনার প্রভাবে শ্রমিক সংকটের কারণে যথাসময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। এতে সেতুর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় থেকে গেছে আট বছর।

পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরজমিনে পরিদর্শনে এসে দ্বিতীয় দফায় আরো দুই বছর সময়সীমা বৃদ্ধি করে কাজ সমাপ্তের নির্দেশনা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এদিকে, কাজ চলমান অবস্থায় দুই বছর পর ২০১৪ সালে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় নির্মাণকাজে আপত্তি জানায়। এ অবস্থায় ঐ বছর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের অর্ধেকের বেশি কাজ সমাপ্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়।

এলজিইডি পটুয়াখালীর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল (কৌশিক) জানান, লোহালিয়া সেতুর পূর্বের নির্মিত অবকাঠামো ঠিক রেখে ডিজাইন সংশোধন করে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র সাপেক্ষে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ডিজাইন অনুযায়ী এই সেতুর উচ্চতা ১ দশমিক ৩০ মিটার বৃদ্ধি করে ১৩ দশমিক ৫০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১১১ দশমিক ৪০ মিটার বৃদ্ধি করে ৫৭৬ দশমিক ২৫ মিটার করা হয়। ১৪ স্প্যান বিশিষ্ট ও ৯ দশমিক ৬৫ মিটার প্রস্থ এই গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নে বর্তমান চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান, ব্রিজটির দক্ষিণ পাশে ৪২৫ এবং উত্তর পাশে ২৫০ মিটারসহ মোট ৬৭৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে এবং উভয় পাশে মোট ৭ দশমিক ৮ একর জমি এ সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই সেতুর আরসিসি অবকাঠামো নির্মাণ করবে বর্তমান স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যের ১০৭ মিটার স্টিল কাঠামো নির্মাণ বাস্তবায়ন করবে চায়নার প্রতিষ্ঠান। এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ খান সম্প্রতি সরজমিনে লোহালিয়া সেতু পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেতুর নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্তির সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সেতু নির্মাণ শেষ হলে দশমিনা, বাউফল ও গলাচিপার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সাধিত হবে। সহজ হবে রাঙ্গাবালী উপজেলা ও ভোলার সঙ্গে যাতায়াত।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x