গাজীপুরে স্ত্রীকে কেটে ৭ টুকরা, স্বামী আটক

গাজীপুরে স্ত্রীকে কেটে ৭ টুকরা, স্বামী আটক
নিহত রেহেনা আক্তার ও ঘাতক স্বামী জুয়েল আহমেদ।

গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর এলাকা থেকে এক নারীর ৭ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৭ মার্চ) লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী জুয়েল আহমেদকে (২২) আটক করা হয়েছে।

নিহত রেহেনা আক্তার সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর থানার পলাশ ইউনিয়নের কাচিরগাতি গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে। জুয়েল একই এলাকার মৃত আ. বাতেন মিয়ার ছেলে। স্বামী জুয়েল আহমেদ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার পর ৭ টুকরা করার কথা স্বীকার করেছে।

জয়দেবপুর থানার ওসি মামুন আল রশিদ জানান, জুয়েলের ও রেহানা সম্পর্কে বিয়াই-বিয়াইন ছিল। প্রেম করে তারা দুইবছর আগে পালিয়ে বিয়ে করে। দুই/আড়াই মাস আগে তারা মনিপুর এলাকায় জাকির হোসেনের টিনসেড বিল্ডিংয়ে ভাড়ায় ওঠে। রেহেনা আক্তার স্থানীয় মনিপুর এলাকার আরাবী ফ্যাশনে চাকরি করতো। আর জুয়েল চাকরি ছেড়ে ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা করতো। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রেহানাকে মারধর করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে রেহানা মারা গেছে ভেবে লাশ গুম করার জন্য স্ত্রীকে শয়ন কক্ষে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মৃতদেহ ৭টি খণ্ড করে পলিথিন ও ব্যাগে ভরে রাতের আঁধারে জঙ্গলে টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের উপর লাশের টুকরাগুলো ফেলে দেয়।

হোতাপাড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হুদা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পেয়ে লাশের সন্ধান পেয়ে জুয়েলকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ দুপুর একটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় জুয়েলকে আটক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের শরীর গলা থেকে কোমর, কোমর থেকে হাঁটু, হাঁটু থেকে দু’পা এবং বগল থেকে দু’হাত ছুরি দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। জুয়েল আহমেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার পর ৭ টুকরা করার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x