হাসপাতালে সরকারি কর্মকর্তাকে বালিশচাপায় হত্যা: শিশুকন্যার দায়িত্বে কমিটি

হাসপাতালে সরকারি কর্মকর্তাকে বালিশচাপায় হত্যা: শিশুকন্যার দায়িত্বে কমিটি
খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলু (লাল চিহ্নিত)। ছবি: সংগৃহীত

মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলুর হত্যাকারী ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। হাসপাতালের ভিতরে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার মূল আসামি ঘাতক স্বামী মো. দেলোয়ার রহমান মিজান পলাতক রয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শাজাহান মিয়া জানিয়েছেন।

সোমবার (৫ এপ্রিল) কুমুদিনী হাসপাতাল সুত্র জানায়, শিশু কন্যা হাসপাতালের শিশু বিভাগের নিবির পরিচর্চা কেন্দ্রে লালন পালন হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যান বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন জেলা সমাজ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহআলম, সরকারী কৌশলী (পিপি) এস আকবর আলী, জেলা মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এবং জেলা আওযামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি। জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানিয়েছেন, শিশুটির অবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য একজন বৈধ অভিভাবকরে কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে।

মামলার বাদী ও কালচারাল কর্মকর্তা ইলুর ভাই খন্দকার আসাদুল আবিদ ও তার বোন খন্দকার রেদওয়ানা কলির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার বোনের উপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিল মিজান ও তার পরিবার। নিজের পরিবার ও সংসারের দিকে চেয়ে আমার বোন সব অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে গেছেন। স্বামী মিজান সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল থেকে সম্প্রতি ভোলা জেলায় বদলী হয়ে যান। গত ২২ মার্চ প্রসব ব্যাথা নিয়ে খন্দকার রিদোয়ানা ইসলাম ইলু হাসপাতালে ভর্তি হন। ঐ দিনই কন্যা শিশুর জন্ম হয়। ছুটি হলেও শিশুকন্যা অসুস্থ্য থাকায় কেবিন ভাড়া নিয়ে ইলু থেকে যান।

গত ২৭ মার্চ মিজান কুমুদিনী হাসপাতালে আসে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে দেখতে। তার স্বামীকে ওয়ার্ডে রেখে ইলুর মামি খোদেজা বেগম শিশু কন্যাকে দুধ খাওয়ানের জন্য তিন তলায় যান। ফিরে এসে দেখেন রুমের দরজা তালা। ঘটনাটি কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের জানালে তারা চাবি এনে দরজা খুলে দেখেন বালিশ চাপা দিয়ে ইলুকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী মিজান পালিয়ে গেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন তার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর মামলা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ আজ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘাতক দেলায়ার রহমান মিজানকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাজাহান মিয়া বলেন, মামলার পর থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x