গাইবান্ধায় ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২

গাইবান্ধায় ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২
ছবি: ইত্তেফাক

গাইবান্ধায় রবিবার (৪ এপ্রিল) বিকালের বৃষ্টিহীন কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ ও ডালের নিচে চাপা পড়ে আহত আরও দুই নারী সোমবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাতে মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় ঝড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জনে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৫ জন, পলাশবাড়ী উপজেলায় তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলায় দুইজন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একজন ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একজন।

এদিকে ঝড়ের কবলে পড়ে জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে ৬ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষ ও ৪ হাজার ৩২৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৬৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অন্য১দিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা শহরের আশপাশের এলাকাসহ জেলার গ্রামাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়নি।

কালবৈশাখী ঝড়ে সর্বশেষ নিহত দুইজন হলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের চিথুলিয়া চর গ্রামের আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বাতাসি বেগম (৩২) ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী শারমিন বেগম (২০)।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী জানান, ঝড়ে গাছ চাপায় আহত শারমিন বেগম (২০) সোমবার ভোর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, বাতাসী বেগম (৩২) ঝড়ে আহত হয়ে নিজ বাড়িতে সোমবার ভোরে মারা গেছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৮৬৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ঝড়ের তাণ্ডব বয়ে ক্ষতি সাধন করেছে। এরমধ্যে ভুট্টা ৮৩০ হেক্টর, বোরো ধান ২০ হেক্টর, কলা ১৬ হেক্টর ও সূর্যমুখী ৩ হেক্টর।

জেলা ত্রাণ অফিসের প্রধান সহকারী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ঝড়ে ৪ হাজার ৩২৬টি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার ৮৬০ জন মানুষ। উপরে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি।

তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জরিপ কাজ চলছে। দুই একদিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাবে।

গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মোন্নাফ জানান, রবিবার রাতে শহর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মেরামত কাজ চলছে।

গাইবান্ধার চার উপজেলায় শিশু ও নারীসহ ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জানান, এ পর্যন্ত নিহত ১২ জনের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা আর্থিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x