ঝড়ে ভেঙে গেলো রাজশাহীর দৃষ্টিনন্দিত ১০০ সড়কবাতি

ঝড়ে ভেঙে গেলো রাজশাহীর দৃষ্টিনন্দিত ১০০ সড়কবাতি
ভেঙে পড়া সড়কবাতি। ছবি: আজহার উদ্দিন

রাজশাহী মহানগরীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আলোকিত করতে ১৬টি ফ্লাড লাইট বসানো হয়েছে। ৯ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৭ টাকায় কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’।

রবিবার (৪ এপ্রিল) মৌসুমের প্রথম ঝড়ে সড়কে স্থাপিত ১৭৪টি সড়কবাতির মধ্যে প্রায় ১০০ টি হেলে পড়ে বা ভূপাতিত হয়। এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে রাসিক।

এর আগে কাজটি শেষ করার পরই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে প্রকল্পের নথিপত্র জব্দও করে। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’কে নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। তারপরও একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নগরীর বিলশিমলা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কবাতি বসানোর কাজটি পায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ১৬টি ফ্লাড লাইট বসানোর কাজে অনিয়মের বিষয়টি এখনও অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৯ সালের শেষের দিকে বসানো ফ্লাড লাইট প্রকল্পে ছয় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গত বছরের ৪ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম নগর ভবনে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগটি এখনও অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুতই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। এদিকে, স্থাপনের দেড় মাস পরই নতুন সড়কবাতির খুঁটিগুলো উপড়ে পড়ায় কাজে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটি তদন্তের দাবি উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে চার লেন সড়কটির আইল্যান্ডে চীন থেকে আনা সড়কবাতির ১৭৪টি খুঁটি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি খুঁটির সঙ্গে প্রজাপতির মতো ডানায় দুটি করে এলইডি বাতি বসানো হয়।

রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক) রেয়াজাত হোসেন রিটু জানান, সড়কবাতির খুঁটি একটি কংক্রিটের স্তম্ভের ওপর বসানো হয়েছিল। পাঁচ ফুট উচ্চতার স্তম্ভের সাড়ে তিন ফুট মাটির নিচে এবং দেড় ফুট মাটির উপরে রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, কংক্রিটের স্তম্ভগুলোর কোনটির উচ্চতাই পাঁচ ফুট হবে না। এগুলোর উচ্চতা সর্বোচ্চ তিন ফুট। এর অর্ধেক অংশ মাটির নিচে, বাকিটা উপরে ছিল। মাটির নিচে কম থাকার কারণে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার (ঘণ্টায়) গতিবেগের ধুলিঝড়ে খুঁটিগুলো উপড়ে পড়ে। রবিবার সরেজমিনে ৮৬টি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যায়। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই ক্রেন দিয়ে চেপে হেলেপড়া খুঁটিগুলো সোজা করার কাজ করছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৯টি খুঁটি সোজা করা হয়।

সূত্র মতে, সবগুলো খুঁটি তুলে কংক্রিটের স্তম্ভের পুরোটাই মাটির নিচে পুঁতে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সোমবার সকালে খুঁটিগুলো পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ঠিকাদারকে এই নির্দেশনা দেন বলে জানা যায়।

তবে খুঁটিগুলো মাটির গভীরে না পোতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আশরাফুল হুদা টিটো। তিনি বলেন, খুঁটিগুলোর নিচের অংশে বাঁশের মতো নান্দনিক কারুকাজ করা আছে। তাই আরও পুঁতে দিলে সেটি আইল্যান্ডে ঢেকে যেত। সুন্দর জিনিসটা দেখানোর জন্য অল্প করে খুঁটি পোতা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নতুন সড়কটার আইল্যান্ডের ভেতরে শুধু বালু। এ কারণে বাতাস সহ্য করতে পারেনি খুঁটিগুলো। আইল্যান্ডে বালুর পরিবর্তে মাটি থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x