হেফাজত ইস্যুতে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকে হেনস্তা, গ্রেফতার ২

হেফাজত ইস্যুতে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকে হেনস্তা, গ্রেফতার ২
ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খান। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আফজাল খানকে (২৪) হেনস্তা ও আটক করে রাখার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাকে হেনাস্তা করা হয়।

গতকাল বুধবার রাতে ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে ঘটনার নেতৃত্বে থাকা আল মুজাহিদ (২৫) ও তার বাবা জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমসহ (৬৫) ২৯জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে এই মামলাটি করেছেন।

ধর্মপাশা থানার পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ দুপুরে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা আফজাল হোসেন ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। স্থানীয় কিছু যুবক এর স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ছাত্রলীগ নেতা জয়শ্রী বাজারে যান। এ সময় জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) আবুল হাশেম আলমের ছেলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের কারিগর আল মুজাহিদ (২৫) বিভিন্ন বয়সী ৩০ থেকে ৪০ জনকে নিয়ে কেন ওই পোস্ট দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা জানতে চান। আফজাল তখন উপস্থিত লোকজনকে বলেন, তিনি হেফাজতে ইসলামকে ব্যঙ্গ করে কোনো পোস্ট দেননি। তবে হেফাজতের আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিবাদে পোস্ট দিয়েছেন।

এ নিয়ে আফজাল ও মুজাহিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সেখানে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মুজাহিদ ওই ছাত্রলীগ নেতার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। আফজালের কয়েকজন বন্ধু ও স্থানীয় কয়েকজন তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মুজাহিদের পক্ষের লোকজন বেশি হওয়ায় তারা আফজালকে জয়শ্রী বাজারে থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আটক করে রাখেন। দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে তখন তিন শতাধিক মানুষ অবস্থান নেয়।

খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আফজালের বিপক্ষে জড়ো হওয়া মানুষকে শান্ত করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সেখানে উপস্থিত হন ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানের ভাষ্য, ওসির নির্দেশে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে ধর্মপাশা থানার পুলিশ। এরপর তাকে ধর্মপাশা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিস্তারিত পরিচয় পেয়ে মাঝপথেই পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি ছাড়া পান।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে বাদে হরিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আল মুজাহিদের বাবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বহিষ্কৃত)সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনে আটক করা হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলার পর অভিযান চালিয়ে বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাদে হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা এজহারভুক্ত আসামি মো. রফিককে (২৭) গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল হক, এএসআই আনোয়ার হোসেনকে এবং বুধবার রাতে ধর্মপাশা ওসি দেলোয়ার হোসেনকে ক্লোজ করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘মামলার এজহারভুক্ত আসামি আবুল হাশেম আলমসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছ।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x