সবুজ শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

সবুজ শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন
[ছবি: ইত্তেফাক]

শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার চারদিকে এখন ঘন সবুজের সমারোহ। ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে ধান গাছের সবুজ পাতা ও শীষ। আর এই সবুজের ঢেউয়ে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে।

কদিন পরেই সবুজ ধানগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। এরপর সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে ফসলের মাঠ। মাঠ ভরা ফসল দেখে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছোঁয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবার ইরি-বোর ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ধান উৎপাদনের দিক থেকে নন্দীগ্রাম শীর্ষে রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ইরি-বোর ধানের শীষ বের হয়েছে। তবে কিছু কিছু জমিতে ধানে রোগ দেখা দিলেও সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও সতর্কতার সাথে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছে কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার কালিকাপুর মাঠ, সদর ইউনিয়নের দলগাছা গ্রামের মাঠ ইরি-বোর ধানের চাষাবাদে ভরে গেছে। ধানক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। ইরি-বোর ধান লাভ জনক ফসল। তাই কৃষকরা বোরো মৌসুমকে ঘিরেই নানা স্বপ্ন দেখে। এবছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চাষিরা ধান রোপণ করেছেন। যথা সময়ে সার, বালাইনাশক ও সেচ দিতে পারায় ধান গাছ উজ্জীবিত রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে চাষাবাদকৃত ইরি-বোর ধান গতবারের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ধান কাটা শুরু করা যাবে। এখন পর্যন্ত ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। এবছর বিদ্যুৎ ও সারের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। যার কারণে ফসলের চেহারাও অনেক সুন্দর হয়েছে। সবল-সতেজ চারাগুলো দেখে মনে হয় ধানের ব্যাপক ফলন হবে।

তারা আরও জানান, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তবে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে ইনশাল্লাহ। তবে দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে হতাশা প্রকাশ করেছে কৃষকরা।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার আদনান বাবু জানান, ইরি-বোর ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছি। এ পর্যন্ত বোরো চাষে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তাই ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এবছর ১৯হাজার ৪৭৫হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। পরবর্তী আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও কোনো প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে নন্দীগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x