করোনা রোগীদের জন্য রাখা ৩৬ শয্যাই শূন্য!

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল
করোনা রোগীদের জন্য রাখা ৩৬ শয্যাই শূন্য!
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য রাখা শূন্য পড়ে থাকা শয্যা। ছবি: ইত্তেফাক

নেত্রকোনা জেলা শহরের আধুনিক সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৩৬টি বেড রয়েছে। কিন্তু সুচিকিত্সার ব্যবস্থা না থাকায় করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও সবগুলো বেড খালি রয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত সেখানে কোনো রোগী ভর্তি নেই। এমনকি গত দুই মাসেও কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। অথচ নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য গেলে গত শুক্রবার তিনি সেখানেই মারা যান।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য গত বছরই আলাদা ওয়ার্ডে কয়েকটি বেড রাখা হয়। সেখানে প্রথমদিকে কিছু লোক চিকিত্সা নিলেও পরে আর এই হাসপাতালের চিকিত্সার তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা না থাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী আর এই হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি হননি। রোগীরা কেউ ঢাকায় কিংবা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সা নেন। নেত্রকোনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য অদ্যাবধি পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়নি। নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেনের কোনো ব্যবস্থা। গতকাল শনিবার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের করোনা চিকিত্সার জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে গেলে দেখা যায়, বেডে কোনো বিছানা নেই, বালিশ নেই। খালি খাটিয়াগুলো পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওয়ার্ড ঝাড়ু দিতে দেখা গেছে।

নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সাঈদ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য সদর হাসপাতালে ৩৬টি বেড রয়েছে। কিন্তু করোনা আক্রান্ত রোগী উন্নত চিকিত্সার জন্য ময়মনসিংহ অথবা ঢাকায় চলে যান। কেন যান, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা চিকিত্সা নিতে পারছেন না। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজ চলছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, নেত্রকোনা জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী সংখ্যা কম, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত রোগীদের এখানে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হলে এখানেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভালো চিকিত্সা দেওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x