সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-বালু

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-বালু
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট [ছবি: ইত্তেফাক]

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে।নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড লাগানোর কথা থাকলেও তা লাগানো হয়নি। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে এবং সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের গাড়াগ্রাম ডিসির মোড় থেকে গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ১২০৯ মিটার দীর্ঘ এবং ১৬ ফিট প্রশস্ত সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় নীলফামারীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গোলাম রব্বানী এন্টার প্রাইজ। দরপত্র অনুযায়ী সড়কটির দুইপাশে তিনফুট করে ৬ ফিট বর্ধিত করে ১৬ ফিটে উন্নীত করা হয়।

সড়ক নির্মাণ কাজের নীতিমালা অনুযায়ী বর্ধিত ৬ ফিট সড়কে বক্সকাটিংয়ের পর বালু ফেলে সঠিকভাবে কমপেকশন করে ১০ ইঞ্চি করতে হবে। তাঁর পর বালু এবং এক নম্বর পিকেট ইটের খোয়ার মিশ্রণ হবে ৬ ইঞ্চি। বালু এবং খোয়ার মিশ্রণের উপর সঠিকভাবে মজবুতিকরণ করার পর পুনরায় পিকেট ইটের খোয়া দিয়ে ডাব্লিউভিএম কাজ সম্পন্ন করতে হবে। রবিবার বিকাল ৪ টার দিকে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায় তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের সালুট ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা নুরল হক, জামেদুল ইসলাম, আরিফুর রহমান সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি বর্ধিত অংশের দুই পাশে খননের পর বালু এবং খোয়া ফেলে সঠিকভাবে রোলিং না করেই ডাব্লিউভিএম কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। ফলে সড়কটির দুই পাশে দেবে গিয়ে সড়ক ফেটে যেতে পারে। এছাড়াও সড়কটির ডাব্লিউভিএম কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তদারকি কর্মকর্তা না থাকায় ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছে।

সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা কালাম মিয়া বলেন, ভাই সড়কটির দুই পাশে বর্ধিত অংশে ডাব্লিউভিএমের কাজ ছিল কিন্তু পূর্বের মুল ১০ ফিট প্রস্থের সড়কে ডাব্লিউভিএম নাই। তাই পূর্বের সড়কটি ভেঙ্গে বর্ধিত অংশসহ মিল রাখার জন্য এই খোয়া ব্যবহার করে রোলিং করা হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা জগোবন্ধু রায় সড়ক নির্মাণ কাজে উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রকল্প এলাকায় এলজিইডি দপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বাড়ি। কাজে ঠিকাদার কোনভাবে সড়ক নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম করতে পারবেনা। সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার এবং সঠিকভাবে মজবুতিকরন না করার বিষয়য়ে কথা বললে তিনি বলেন, বিল প্রদানের আগে ভালভাবে কাজ বুঝে নেয়া হবে।

সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদার গোলাম রব্বানীর সাথে কথা বললে তিনি সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, পূর্বের ১০ ফিট সড়কে ডাব্লিউভিএম ধরা ছিলনা। তাই গোটা সড়কটি ফিনিশিং করার জন্য ওই খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি জলঢাকা উপজেলার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তাই এ বিষয়ে তেমন কিছু জানিনা। আপনি অফিসে আসেন বিস্তারিত কথা বলব।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x