ফলোআপ: লামায় হাফেজ খুন

অলিকে গাছে বেঁধে রেখেই লাশ গুম করতে গর্ত খুঁড়ি

আদালতে দুই আসামির জবানবন্দি
অলিকে গাছে বেঁধে রেখেই লাশ গুম করতে গর্ত খুঁড়ি
গ্রেফতার ফয়েজ আহমদ ও মো. আরিফুল ইসলাম [ছবি: ইত্তেফাক]

কিশোর হাফেজ অলি উল্লাহকে হত্যার আগেই তার লাশ গুম করতে পাহাড় চূড়ায় গর্ত খোঁড়ে দুই অপহরণকারী, আর গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে অলিকে। এরপর অলির ছবি তুলে স্বজনদের মোবাইলে মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে দাবিকৃত মুক্তিপণের ১ লাখ টাকার জন্য চাপ দেয় তারা। তবে অলি উল্লাহর স্বজনরা মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় অপহরণকারীদের একজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার কোমরের বেল্ট খুলে সেটি দিয়ে শ্বাসরোধে অলিকে হত্যা করে এবং খুঁড়ে রাখা গর্তে লাশ ফেলে মাটি চাপা দেয়।

কিশোর হাফেজ অলি উল্লাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামি মো. আরিফুল ইসলাম (১৭) ও মো. ফয়েজ আহমদ (৩৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমনটাই বলেছে লামার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের আদালতে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে একনাগাড়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় জবানবিন্দ দেয় এই দুই আসামি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লামা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে খবরটি নিশ্চিত করেন।

ওসি বলেন, আসামিরা অলিকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি এবং হত্যার পর লাশ গুমের অপরাধ আদালতের কাছে স্বীকার করেছে। আদালত জবানবন্দি শেষে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে কিশোর হাফেজ মৃত অলি উল্লাহর বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন সোহেল বাদী হয়ে লামা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মৃতের মামাতো ভাই আরিফুল ইসলাম ও ফয়েজ আহমদ ছাড়াও অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েক জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাদাবি, হত্যা এবং লাশগুমের পৃথক অভিযোগ আনা হয়।

কিছুদিন আগে গ্রেফতার করা হয় আরিফুল ও ফয়েজকে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কিশোর হাফেজ অলি উল্লাহর লাশ গত মঙ্গলবার রাতে লামার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিংঝিরি নামক এলাকার পাহাড় চূড়ার গর্ত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণের ২৫ দিন পর উদ্ধার করা হয় অলির লাশ। মৃত মো. অলি উল্লাহ স্বাধীন কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষুপুর গ্রামের মো. মোবারক হোসেনের ছেলে। আর অপহরণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ফয়েজ আহমদ কুমিল্লার বুড়িচং থানার খারাতাইয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে এবং মো. আরিফুল ইসলাম একই জেলার দেবীদ্বার থানার বিষুপুর গ্রামের মৃত মো. আব্দুল গণি খার ছেলে। নিহত অলি উল্লাহ ও অপহরণকারী মো. আরিফুল ইসলাম সম্পর্কে ফুফাতো-মামাতো ভাই।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x