পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারামারি, আহত ৬

পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারামারি, আহত ৬
[ছবি: ইত্তেফাক]

পিরোজপুরে ক্ষমতাসীন দলের দু’টি গ্রুপের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার রাতে শহরতলীর শিকারপুরে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক প্রবাসীর বাড়ী এবং এক পক্ষের স্বেচ্ছাসেবক লীগের জনৈক নেতার বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। এর আগে অন্য পক্ষের এক কর্মীকে প্রহার ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করায় খুলনার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে পিরোজপুর শহরের উত্তর শিকারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শহরের দু’টি ইজিবাইক স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সহিংস ঘটনার সূত্রপাত। পিরোজপুরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহান অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসীরা শুক্রবার রাতে তিনিসহ প্রতিবেশী প্রবাসী রাজু ফকিরের বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই বাড়ীর নারী শিশুসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বাড়ি ও বাসার ভিতরের আসবাবপত্র ভাংচুরসহ স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাঁধা দিতে এলে সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভিতরের থাকা নারী-শিশু ও পুরুষদের মারধর করে এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

জহিরুল ইসলাম জিহান আরও জানান, রাতে হঠাৎ করে ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসীদল তাদের বাড়ির উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ রাখলেও সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে ঘরে থাকা তিনিসহ নারী ও শিশুদের জিম্মি করে ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, আলমারি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আলমারিতে থাকা ৫০-৬০ হাজার টাকা ও নারীদের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও আলমারিতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আরও চাঁদার টাকা দাবী করে বলে, আরও টাকা না দিলে পরবর্তীতে তাদের বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরসহ তার ছেলে জিহানকে হত্যা করবে।

No description available.

এদিকে একই বাড়ির ভিতরের বাসিন্দা প্রবাসী রাজু ফকিরের ভাই রনি ফকির জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে বাড়ির ভিতরে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে ঢুকে ঘরে থাকা তার ভাবীকে মারধর করে এবং ভাবীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রে দিয়ে ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, আলমারি ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

অন্য দিকে খুলনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সরকার দলীয় কর্মী মেরাজ শেখ (৩০) জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শহরের সিও অফিস এলাকার ব্রিজের উত্তর পাশে এক দল সন্ত্রাসী তার উপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় তিনি মটর সাইকেল থেকে পড়ে যান। সন্ত্রাসীদের কোপ ও এলোপাথাড়ি প্রহারে তিনি মাথা, বাম হাত ও পায়ে মারাত্মক আহত ও আঘাত পান। হাসপাতালে তার মাথায় ছয়টি ও বাম হাতে আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেরাজ শেখের ওপর হামলা প্রতিশোধ হিসাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিহান ও তার প্রতিবেশী প্রবাসী রাজু শেখের বাড়ীতে লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইতিমধ্যে মিরাজ শেখের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদিকে দু’টি বাড়ীতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। যে কোন মূল্যে শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x