বীরাঙ্গনা চারুবালাকে মাথাগোঁজার ঠাঁই দিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার

বীরাঙ্গনা চারুবালাকে মাথাগোঁজার ঠাঁই দিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার
ছবি- ইত্তেফাক

শহীদ জায়া বীরাঙ্গানা বৃদ্ধা চারুবালা ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের পদ্মানদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল রমেশবালার ডাঙ্গী গ্রামে তার বসবাস।

মহান মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন বীরাঙ্গনা চারুবালার স্বামী চন্দ্রকান্ত বিশ্বাস ও সন্তান। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত স্বামীর স্মৃতি বুকে আগলে শহরের টেপাখোলা বাজারে শাকসব্জি বিক্রি করে কোনরকম দিনযাপন করেছেন এই বীরাঙ্গণা। সম্প্রতি জেলার শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান চারুবালার দৈন্যদশা জানতে পেরে এই বাড়ি তৈরি করে দেন।

এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এর সাথে শহীদ জায়া বীরাঙ্গনা চারুবালা

জানা যায়, জেলা শহর ফরিদপুরের শহীদস্মৃতি সংরক্ষন কমিটি নামক একটি সংগঠন খুঁজে বের করে চারুবালাকে। তারা চারুবালার পরিচয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট তুলে ধরেন। বীরঙ্গনা চারুবালার খোজ পেয়ে কালবিলম্ব না করে ফরিদপুরের মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত মানবিক পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান চারুবালার খোজ খবর নেন। চরভদ্রাসন থানা পুলিশের মাধ্যমে চারুবালার বসত ভিটায় চারচালা সেমি পাকা একটি টিনের ঘর তুলে দেন।

জেলা পুলিশের নিকট হতে থাকার ঘর ও এমপির নিক্সন চৌধুরীর নিকট হতে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে চারুবালা বলেন আমাকে যারা খুজে বের করে মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন ইশ্বর তাদের মঙ্গল করুক।

এ বিষয়ে ফরিপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন “জেলা শহীদস্মৃতি সংরক্ষন কমিটি নামক একটি সংগঠন খুঁজে বের করে এই শহীদ জননী চারুবালাকে। তাদের নিকট হতে জানতে পারি চারুবালা যেখানে তার ভাইয়ের বাড়িতে থাকে সেখানকার আশে-পাশের লোকজন জমি নিয়ে তার সাথে ঝামেলা করে। চারুবালা স্বাধীনতা যুদ্ধে তার স্বামী সন্তান হারিয়েছে ও তার ঘরটি খুব জরাজীর্ন তখন মানবীক দিক থেকে আমরা জেলা পুলিশ তার পাশে দাড়াই এবং মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেই।

এর আগে রবিবার বেলা সারে ১১টার দিকে দুর্গম চরে বীরঙ্গনা চারুবালার বসতবাড়ি পরিদর্শন ও সার্বিক খোজ নিতে যান ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)।

পরে চারুবালার বসত ভিটেয় চরভদ্রাসন থানা পুলিশের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ফরিদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান এই মুক্তিযোদ্ধা চারুবালার সন্ধান করে তার পাশে দাড়িয়েছেন। মুজিববর্ষে পুলিশ সুপারের নির্দেশে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ প্রত্যন্ত চরের একটি খুপরি ঘড়ে পরে থাকা বীরঙ্গনা চারুবালার মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন। পুলিশ এই করোনা মহামারির সময় তাদের নিজস্ব তহবিলের টাকা দিয়ে সুন্দর একটি ঘড় তৈরী করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সভা শেষে এমপি নিক্সন চৌধুরী জেলা পুলিশের দেওয়া নির্মিত ওই ঘরটি আজ রোববার দুপুরে চারুবালার হাতে হস্তান্তর করার পাশাপশি সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে বীরঙ্গনা চারুবালাকে ১লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য ২ লক্ষ ও একটি মন্দির সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকার অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন। এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারি ফান্ড হতে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

ইত্তেফাক/এনএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x