মায়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে ফিরছেন স্বামী-সন্তানের মরদেহ নিয়ে

মায়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে ফিরছেন স্বামী-সন্তানের মরদেহ নিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের কাঁঠালবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) সাথে স্পিডবোটের সংঘর্ষের ঘটনায় স্বজন হারানোর কান্নায় ভারি হয়েছে উঠেছে এলাকাটি। চারপাশে মরদেহের সারি। স্বজনদের খোঁজে ভিড় করছেন মানুষ।

আজ সোমবার (৩ মে) ভোরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এ পর্যন্ত ২৬ জন। প্রিয়জনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা। মরদেহ উদ্ধারের পর পরই ছুটে যাচ্ছেন স্বজনরা।

উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে কাঁদছিলেন বছর বয়সী আদুরি বেগম (৩৫)। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে তার বাড়ি। স্বামী–সন্তান নিয়ে ঢাকার হাসনাবাদে থাকতেন।

গতকাল রবিবার রাতে আদুরির মা মনোয়ারা বেগম মারা যান। মায়ের লাশ দেখতে স্বামী–সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৬টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। ঘটনাস্থলেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়।

আদুরি বেগম এই দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী। দুর্ঘটনায় তার স্বামী আরজু মিয়া (৪০) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে জীবিত উদ্ধার হন আদুরি। মায়ের লাশ দেখতে গিয়ে ফিরলেন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

শিবচরে বাল্কহেড ও স্পিডবোট সংঘর্ষ, ২৬ মরদেহ উদ্ধার

নৌপুলিশের একটি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ছবি: ইত্তেফাক

এদিন সকাল ১০টার দিকে স্বামী-সন্তানের খোঁজে নদীর তীরে ছুটে যান আদুরি। সেখানে কাউকে না পেয়ে যান দোতরা স্কুলের মাঠে। স্বামী–সন্তান নেই জেনে তার কান্নায় ভারি হয়ে উঠে আকাশ-বাতাস।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন আদুরির দুই চাচা ও ফুফু। তারা লাশের সারি থেকে আদুরির স্বামী আরজু মিয়া ও ছেলে ইয়ামিনকে শনাক্ত করেন।

আদুরির চাচা বলেন, ‘মেয়েটি মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিল। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে তাকে। আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব তাকে? বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে এসেছি। ফোনে আরও দুটি কবর প্রস্তুত করতে বলেছি।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x