সাঘাটায় ভিজিডির পোকাধরা ও নিম্মমানের চাল বিতরণের অভিযোগ

সাঘাটায় ভিজিডির পোকাধরা ও নিম্মমানের চাল বিতরণের অভিযোগ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মাঝে পোকাধরা ও নিম্মমানের চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। খাওয়ার অনুপযোগী এসব চাল উপকারভোগীরা খেতে পারছেন না। 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মাঝে পোকাধরা ও নিম্মমানের চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। খাওয়ার অনুপযোগী এসব চাল উপকারভোগীরা খেতে পারছেন না।

গত শনিবার থেকে সোমবার (৩ মে) পর্যন্ত উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডির চাল বিতরণের পর পোকাধরা ও নিম্মমানের চাল বিতরণের বিষয়টি জানাজানি হয়।

তবে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ বলছে, রং যেমনই হোক চালের গুণগত মান ঠিক আছে। খেতে কোনো সমস্যা নেই।

সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ভিজিডি’র উপকারভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮০ জন। এরমধ্যে উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নে ভিজিডির উপকারভোগী ২০৩ জন। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিজিডির এই চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী প্রতিজন উপকারভোগী ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন।

এদিকে সোমবার উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরেও এই কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা এসব চাল দেখে সবাই হতবাক হন। কারণ কোনো চালের রং লালচে, কোনোটি সবুজ, আবার কোনটি কালো, কোনোটি নীল।

মুক্তিনগর ইউনিয়নের উপকারভোগি আলেয়া বেগম (৫০) বলেন, এই চাউল তো মানুষ খেতে পারবে না। গরু ছাগলকে খাওয়ালেও অসুস্থ হবে। কারণ চালের মধ্যে পোকা নড়াচড়া করছে।

একই ইউনিয়নের সুবিধাভোগী নবান আলী (৪৮) বলেন, আমরা গবীর মানুষ। তাই বলে কি আমাদের জন্য পঁচা চাল দেওয়া হলো।

মুক্তিনগর ইউপি সদস্য পান্না শেখ বলেন, ‘নিম্মমানের চাল স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে। আমরা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না। জনগণ মনে করে এ চাল আমরাই দেই।

মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশাদ আজিজ বলেন, ‘এবার ভিজিডির চালের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতো নিম্মমানের চাল কখনো দেখিনি। এ চাল বিতরণের কারণে উপকারভোগীরা আমাদের গালমন্দ করছেন। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে বাধ্য হয়ে চাল বিতরণ করি।

এসব বিষয়ে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলম বলেন, ‘চালের রং লালচে হওয়ার কারণ বেশি হিট পেয়েছে। তবে চালগুলো গুণগতমান কমেনি। সম্পূর্ণভাবে খাওয়ার উপযোগী। এতে কোনো সমস্যা নেই।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x