দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীদের আতঙ্কের নাম শিমুলিয়া ঘাট

দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীদের আতঙ্কের নাম শিমুলিয়া ঘাট
শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুট [ছবি: ইত্তেফাক]

নৌপথে দেশের অন্যতম শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুট। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট। লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার মানুষ পদ্মা পাড় হয়। এই রুটটিতে প্রতিদিনই পারাপার হতে এসে ঘাটের শ্রমিক ও ইজারাদারদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় যাত্রীদের।

একটু সুযোগ পেলেই ভাড়া বাড়িয়ে দেয় দু’তিন গুন। ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলেই যাত্রীরা শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন। কোন এক অলৌকিক শক্তিতে ঘাটে নিয়োজিত প্রশাসন সর্বদাই থাকে নিশ্চুপ। বিশেষ করে সি-বোট ঘাটের শ্রমিকরা অনেকটাই বেপরোয়াভাবে থাকে। যাত্রীদের সঙ্গে কুকুরের মতো ব্যবহার করে। এ থেকে পরিত্রাণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে সাধারণ মানুষ।

একেকটি মাঝারি সি-বোটে ১২-১৪ জন যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও গাদাগাদি করে নেওয়া হচ্ছে ২৫-৩০ জন। পারাপারের সময় প্রতিজনের লাইফ জ্যাকেট গায়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে হচ্ছে। আর সি-বোট চালকদের নেই কোনো সনদ কিংবা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সি-বোটে পদ্মা পার হতে দরপত্র অনুযায়ী জনপ্রতি ১২০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা। সন্ধ্যার পর সি-বোট চালানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় প্রতিদিন পারাপার করা হচ্ছে।

ইজারার শর্ত অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা বোটঘাটে টানিয়ে দেওয়া কিংবা টিকিটের গায়ে উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও এ শর্ত মানা হচ্ছে না। যাত্রী ওঠানো এবং নামানোর জন্য ঘাটে নেই সুব্যবস্থা। ঝুঁকি নিয়েই উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাতে সি-বোটে পার হতে গিয়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x