ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পরও কমছে না ভিড় 

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পরও কমছে না ভিড় 
ছবি: আব্দুল গনি

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। দিনের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা থাকার পরও ভিড় কমছে না। বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্টের বাধা অতিক্রম করে ভোর থেকেই মানুষ আসছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ভিড়ও বেড়ে যায়।

সোমবার দিনের বেলা অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের জন্য ৪টি ফেরি চলাচল করেছে বলে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সকাল সাড়ে ৭ টায় কয়েক হাজার যাত্রী ভর্তি করে ফেরি লেন্টিং বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এরপর সাড়ে ১০ টায় ফেরি যমুনা ছেড়ে যায়। পরবর্তীতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আরও ৩টি ফেরি ছেড়ে যায়। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে শনিবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত ১৫ টি ফেরি চলাচল করছে। রাত ৩ টা পর্যন্ত ছিল জনস্রোত।

ছবি: আব্দুল গনি

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার দিনের বেলা জরুরি অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য ৪টি ফেরি চলাচল করছে। দিনের বেলা ফেরি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে তিনি জানান।

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘দিনের বেলা ফেরি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি।’ দিনের বেলা বাংলাবাজার থেকে ফেরি আসলেই আমরা লোড দিয়ে বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

মাওয়া নৌ-পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ জেএম সিরাজুল কবির জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় পদ্মা পাড়ি দিতে চেষ্টা করায় ট্রলার ও জেলে নৌকায় পদ্মা পার হওয়ার সময় ১৩টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেক নৌকার মাঝিকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানার পর ছেড়ে দিয়েছে।

এদিকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার কারণে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি ঠেকাতে সরকার শনিবার থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ঠেকানো যাচ্ছিল না। তাই রবিবার থেকে বিজিবি মোতায়েন করছেন ফেরিঘাটের ভিড় ঠেকাতে। কিন্তু এরপরও মানুষের ঢল থামেনি।

স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানছে না কেউ

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে ফেরি ঘাটে জড়ো হচ্ছে যাত্রীরা। এখানে কোন শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছেনা। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠছে এবং একইভাবে ঘাটের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে যাত্রীরা। শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করলেও যাত্রীরা মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন লক্ষণই দেখা যায়নি। এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।

স্থানীয় প্রশাসক শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য যাত্রীদের বললেও তা মানতেছে না বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x