আজও সারাদেশে বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা ঈদ উদযাপন করছেন

আজও সারাদেশে বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা ঈদ উদযাপন করছেন
ছবি: ফোকাস বাংলা

গতকালের মতো আজও সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। জানা গেছে, যারা এসময় ঈদ পালন করছেন তারা মূলত বিভিন্ন পীরের অনুসারী। পীরের মতানুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যেকে অনুসরণ করে তারা ঈদ পালন করছেন।

ইত্তেফাকের প্রতিনিধিদের পাঠানো বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দেশব্যাপী ঈদ উদযাপনের খবর:

বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ৬০ জন মুসল্লী। সকালে উপজেলার চটকাবাড়িয়া ঈদগাপাড়া জামে মসজিদে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন রেজাউল ইসলাম। এছাড়াও হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভালকী ও নিত্যানন্দপুর গ্রামে কিছু লোক সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ পড়েছেন বলে হরিণাকুন্ডু থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা জানান। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চিথলীপাড়া, ভালকী, বৈঠাপড়া, ফলসিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন।

শাখাওয়াত হোসেন শামীম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ৫টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্রা মাদ্রাসা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা আরিফ চৌধুরী। এছাড়া বুধবার হাজীগঞ্জ উপজেলার শমেশপুর ও সাদ্রা এলাকার দু’টি গ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা পীর মাওলানা ইসহাক সাহেবের নেতৃত্বে প্রতি বছর সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে তারা।

দিদারুল আলম,সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী প্রায় ৬০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বৃহস্পতিবার ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের মসজিদ ও দায়রা শরীফ ঘরে সকাল সাড়ে নয়টায় ঈদের নামাজ অনুষ্টিত হয়। যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্টিত জামাতে ইমামতি করেন পীরজাদা ড. মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান। উক্ত ঈদ উল ফিতরের নামাজে আনুমানিক ৪ শতাধিক মানুষ শরীক হন। মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া, চরতী, বাজালিয়া, ছদাহা, কেওচিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, চরম্বা ও চুনতি, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়াসহ ৬০ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ আজ ঈদ উল ফিতর পালন করলেন। জানা গেছে, উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২শত বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবের সময়ানুযায়ী একদিন আগে রোজা রাখেন ও একদিন আগে ঈদ পালন করে থাকেন।

সুলতান হোসেন, আদিতমারী (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই প্রতিবছরের ন্যায়ে এবারও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিন ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতে ঈমামতি করেন মাওলানা ইমান আলী। জানাগেছে, লালমনিরহাটে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার, সুন্দ্রহবী, কাকিনা, চাপারহাট, চন্দ্রপুর, আমিনগঞ্জ ও মুন্সীপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

সৌদি আরবের সাথে সংহতি রেখে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বৃহ্ষ্পতিবার ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার বাগপুর জামে মসজিদে। উপজেলার বাগপুর জামে মসজিদের ঈমাম আব্দুল বাতেন জানান, উপজেলার মহিপুর, কোলকোন্দ, বাগপুর, গঙ্গাচড়া সদর ও সুন্দরগঞ্জ এলাকার প্রায় ৩শ লোক ঈদের নামাজ আদায় করেন। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে তারা ২৯ বছর ধরে বাংলাদেশ সময়ের একদিন আগে ঈদ করছেন তারা।

ইত্তেফাক/এসজেড

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x