চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথে থেমে নেই ইয়াবা পাচার!

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথে থেমে নেই ইয়াবা পাচার!
[ছবি: সংগৃহীত]

ইয়াবা পাচার থেমে নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে। নিত্যনতুন কৌশল পালটে ও অভিনব কায়দায় পাচারকারীরা ইয়াবা পাচার করছে। প্রায়ই এ সড়কের ইয়াবার ছোট-বড় চালান ধরা পড়ছে।

বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ইয়াবা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত পথ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। সড়কে পুলিশের সতর্কতামূলক অবস্থান থাকার পরও চোরাচালানকারীরা বিভিন্ন কৌশল পালটে ইয়াবা পাচার করছে। সড়ক পথে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা হয়ে ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে ইয়াবা চলে যাচ্ছে। নীল, লাল রংসহ বিভিন্ন রঙের ছোট প্যাকেটে ২০০টি ট্যাবলেট প্যাকেটজাত করে পাচার হয়। ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এবং দেশের যুবসমাজ ও অভাবী নারী-পুরুষকে।

পাচারকারীরা কখনো যাত্রীবেশে কখনো চালকের আসনে কখনো ভিক্ষুক-প্রতিবন্ধী ও সুফি সেজে পাচার করছে ইয়াবা। কক্সবাজার থেকে প্রাইভেটকার, হাইয়েচ-মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মালবাহী-লবণবাহী ট্রাক ও মিনিট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে সড়ক পথে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৮টি চেকপোস্ট রয়েছে। প্রায়ই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে শতশত ও হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট।

লোহাগাড়ার চুনতি চেক পোস্টসহ উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে কয়েক লক্ষাধিক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও অনেক পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার পিস ইয়াবা ও মার্চ মাসে ৯০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশির ভাগ ইয়াবা চালান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন থেকে উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে এসব ইয়াবা।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, ইয়াবা সেবনে শরীরে নানা জটিল রোগ হয়। ইয়াবায় ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এমফিটামিন রয়েছে। এটি সেবনে কিডনি নষ্ট, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গসহ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসসহ হার্টএ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, মাদকদ্রব্যসহ ইয়াবার সঙ্গে কোনো আপোষ নেই। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাচারকারীরা যতই কৌশল করুক না কেন, পার পাবে না। উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণে লোহাগাড়া থানাপুলিশ সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে পাচারকারীরা রেহাই পাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x