বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল
আগৈলঝাড়া (বরিশাল): উপজেলার পয়সারহাট ব্রিজে উপচে পড়া ভিড়—ইত্তেফাক

ঈদে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেখা গেছে বিভিন্ন বিনোদন স্থানে লোকজনের ঢল। সেসব স্পটে মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। এতে করোনা সংক্রমণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

দিনাজপুর: বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত না হলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দিনাজপুর গোর এ শহিদ বড় ময়দান এবং জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত এসব এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন বিকালে বড়মাঠে হাঁটতে যাওয়া দিনাজপুর শহরের আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, করোনার ভয়াবহতাকে উপেক্ষা করে ঈদের আনন্দে মানুষ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এতে করোনা সংক্রমণ আরো বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমাদের বিরল সংবাদদাতা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরলে চঞ্চল রিসোর্টে ঈদের দিন থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত ছিল উপচে পড়া ভিড়। নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নবাবগঞ্জে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় উদ্যানে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটেছে। জনসাধারণের সমাগমে রাস্তাগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে আশুড়ার বিলপাড়ে বসানো হয়েছে মনোহারী ও খাবারের দোকান, বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা। যানবাহন রাখার জন্য বড় জায়গার গ্যারেজ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান আলী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এত লোকের সমাগম করোনার মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে উপজেলাবাসীকে।

রংপুর: ঈদুল ফিতরের দিন শুক্রবার দুপুর থেকে রবিবার পর্যন্ত রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জ ঘাঘট নদী, রংপুর টাউন হল চত্বর, কাউনিয়ার শতবর্ষী তিস্তা রেলওয়ে সেতু, গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্ট জুড়ে ছিল মানুষের ঢল। এসব এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, শারীরিক দূরত্ব কেউ মানছে না। অধিকাংশের মুখে মাস্কও নেই। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুমুুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। এত লোকের সমাগম কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা তাদের চলে যেতে অনুরোধ করে মাইকিং করছি।’ রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ‘ঈদে বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এসব জায়গাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

আগৈলঝাড়া (বরিশাল): উপজেলার পয়সারহাট ব্রিজে হাজার মানুষের মিলন মেলায় উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। ঈদের তিন দিন ও ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী কেন্দ্র হিসেবে আগৈলঝাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সেতু বন্ধনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পয়সা ব্রিজে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সন্ধ্যা নদীর ওপর নির্মিত পয়সা ব্রিজে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সিদের পদচারণায় মুখর ছিল। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অন্যান্য দিনের চেয়ে ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা।

পাইকগাছা (খুলনা): এবারের ঈদে বোয়ালিয়া ফার্ম ও বোয়ালিয়া ব্রিজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঘুরতে আসা অধিকাংশ দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। দর্শনার্থী রাফিদ আলভী মিমি আক্তার জানান, মহামারি করোনার কারণে ঘরে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। পাইকগাছায় বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক না থাকায় বোয়ালিয়া ব্রিজ ও ফার্ম এলাকায় ঈদে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x